সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

ধর্ম ও ধর্ম-প্রচারক (Religion & Religion-Apostle/Missionary) [PART-1]

ধর্ম মূলতঃ পার্থিব জীবন-যাপন প্রণালী ও অপার্থিব বিশ্বাসের এক অপূর্ব সমন্বয়।ধর্ম মানব জীবনকে ধারণ করে আছে।এটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা।ইহা পার্থিব কোন পণ্ডিত ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনা প্রসূত কোন মতবাদ নয়।প্রকৃত ধর্ম তা-ই,যা মানুষের জীবন-যাপন সম্পর্কিত বিধিব্যবস্থা এবং যা স্রষ্টা কর্তৃক সম্পাদিত,প্রেরিত এবং নির্দেশিত।ধর্মের মধ্যে নিহিত থাকে মানুষের কল্যাণ।ধর্মের কাঠামো সর্বাবস্থাতেই যুক্তিসংগত ও বিজ্ঞানসম্মত। ধর্ম প্রচারিত হয়ে থাকে স্রষ্টা কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে।এসব মহান ব্যক্তিবর্গই মানুষের কাছে ধর্মপ্রচারক,ধর্মের ধারক এবং বাহক হিসাবে পরিচিত।এখন আমরা আমাদের আলোচ্য ধর্মসমূহ (হিদু,বৌদ্ধ,খৃস্টান ও ইসলাম) ও তাদের প্রচারকদের সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করবো। হিন্দু ধর্মে হিন্দু ধর্মের জন্ম হয়েছে ভারতে কিন্তু হিন্দু শব্দটি ভারতীয় নয়,ইহা একটি বিদেশী শব্দ।আবার এটাকে ঠিক বিদেশী শব্দ বলাও সংগত হবে না।ইহা মূলতঃ দেশী শব্দ।সিন্ধু শব্দের বিদেশী উচ্চারণ হিন্দু।প্রাচীন যুগে আর্যগণ মধ্য এশিয়া থেকে ভারতবর্ষে এসে সিন্ধু নদের তীরে বসতি গড়ে তোলে।তারা সিন্ধু কে হিন্দু বলে উচ্চারণ করতো।আর সেই থেকে সিন্ধুনদের তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী লোকজন হিন্দু নামেই পরিচিত হতে থাকে।কিন্তু লক্ষণীয় যে,অধিবাসীরা হিন্দু নামে পরিচিত হলেও সিন্ধুনদ আজও সিন্ধু নামেই পরিচিত,হিন্দু নদ হয়নি।যাই হোক,এভাবে হিন্দু নামে পরিচিত হয় তৎকালীন ভারতীয়গণ।বর্তমানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি-ই কেবল হিন্দু নামে পরিচিত।কোন মুসলিম বা বৌদ্ধ হিন্দু নামে পরিচিত নয়। হিন্দু ধর্ম একটি প্রাচীন ধর্ম,হিন্দুগণ একে সনাতন বলেও দাবি করে।এ ধর্মের একক কোন প্রচারক নেই।হিন্দু ধর্মের বাণীগুলো ঐশ্বরিক বলে দাবি করা হয়।প্রাচীন ঋষিরা নাকি বাণীসমূহ ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।তারপর মুখে মুখে এসব বাণী প্রচারিত হতে থাকে বংশ পরম্পরায়,কাল থেকে কালে,যুগ থেকে যুগে,ঋষি থেকে ঋষির কাছে,গুরু থেকে শিষ্যের কাছে।মুখে মুখে প্রচলিত বাণীগুলোই পরবর্তীকালে সংগ্রহ ও সংকলিত করে ধর্মগ্রন্থ হিসাবে প্রচার করা হয়।সংকলক ও সংগ্রাহকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন ব্যাসমুণি।মুণিকূলের মধ্যে নারদ,বাল্মীকি,কাশ্যপ প্রভৃতি বেশ খ্যাতিমান।হিন্দুদের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ ইত্যাদি জাতীয় কিছু আদর্শ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বও রয়েছে। লক্ষণীয় যে,এসব মুণি-ঋষি বা আদর্শ ব্যক্তিবর্গের কারুরই কোন ঐতিহাসিক পরিচিতি নেই।এদের কোন সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। হিন্দুদের সর্বপ্রাচীন ও আদি ধর্মগ্রন্থ হল বেদ।ইহা চার খণ্ডে বিভক্ত-১।ঋগ্বেদ,২।সামবেদ,৩।যজুর্বেদ ও ৪।অথর্ববেদ।এসবের পর রচিত হয় উপনিষদ,মহাভারত,গীতা,রামায়ণ ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থ।বর্তমানে হিন্দুরা গীতাকেই নিত্যপাঠ্য ও গ্রাহ্য ধর্মগ্রন্থ হিসাবে গ্রহণ করেছে।রামায়ণের প্রভাব ও তাদের মাঝে প্রবল।বেদ,উপনিষদ,মহাভারত এখন আর ততো প্রভাব্শালী নয়। হিন্দু ধর্মে আছে নানা পথ ও মত-একত্ববাদ,অদ্বৈতবাদ,দ্বৈতবাদ,সোহহমবাদ,সোহহংবাদ ইত্যাদি।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।