সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

আগমনী পোস্ট

শবে বরাত বা ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত

দলীল সমূহঃ

 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে (পবিত্র শবে বরাতে) পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিশ্চয়ই আমিই ভয় প্রদর্শনকারী। উক্ত পবিত্র রাত্রিতে আমার নির্দেশ মুবারকে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজগুলো ফায়ছালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (পবিত্র সূরা দুখান শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৫)। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ শব্দ দ্বারা ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ তথা অর্ধ শা’বান উনার রাত বা পবিত্র শবে বরাত উনাকে বুঝানো হয়েছে। সর্বজনমান্য বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর শরীফগুলোসহ সকল তাফসীর শরীফসমূহে এ কথাই উল্লেখ আছে। "(ছফওয়াতুত তাফাসীর, তাফসীরে খাযীন ৪র্থ খন্ডঃ ১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে ইবনে আব্বাস,তাফসীরে মাযহারী ৮ম খন্ডঃ ৩৬৮ পৃষ্ঠা, তাফসীরেমাযহারী ১০ম খন্ড, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে খাযিন, বাগবী,কুরতুবী, কবীর, রুহুল বয়ান, আবী সাউদ, বাইযাবী, দূররে মানছূর,জালালাইন, কামলালাইন, তাবারী, লুবাব, নাযমুদ দুরার, মাদারিক)   ছিহাহ সিত্তাহ শরীফ উনাদের অন্যতম পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থ “ছহীহ ইবনে মাযাহ” শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন অর্ধ শা’বান উনার রাত্রি অর্থাৎ পবিত্র শবে বরাত উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত বরকতময় পবিত্র রাত্রি উনার মধ্যে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, ‘কোনো ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।’ ‘কোনো রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করবো।’ ‘কোনো মুছিবতগ্রস্ত ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।’ এভাবে ফজর বা ছুবহে ছাদিক পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাযাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, লুময়াত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত শরীফ)

ফযীলতঃ

   হাদীছ শরীফ আরও ইরশাদ হয়েছে, " উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন,একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাতযাপন করছিলাম। এক সময় উনাকে বিছানায় না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়ত অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে উনাকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফ এ ফিরে এলে তিনিও ফিরে এলেন এবং বললেনঃ আপনি কি মনে করেন মহানআল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন? আমি বললামঃ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারনা করেছিলামযে, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফ এ তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি শা'বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন"। (বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ, রযীন, মিশকাত শরীফ)   “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া কবুল হয়। পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার প্রথম রাত্র, পবিত্র শা’বান উনার মধ্যরাত্র বা ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্র, পবিত্র ক্বদর উনার রাত্র       এবং পবিত্র দু’ঈদ উনাদের দু’রাত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ)। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বললেন, এ রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জম্মগ্রহণ করবে এবং কতজন লোক মৃত্যূবরণ করবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। আর এ রাতে বান্দার (এক বছরের) আমলসমূহ মহানআল্লাহ পাক উনার নিকট পেশ করা হয় এবং এ রাতে বান্দার (এক বছরের) রিযিকের ফায়সালা হয়"। (বাইহাক্বী, ইবনে মাজাহ্, মিশকাত শরীফ) হাদীছ শরীফ এ আরও ইরশাদ হয়েছে, "হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ননা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি শা'বান মাসের ১৫ তারিখ রাত্রিতে ঘোষনা করেন যে, উনার সমস্ত মাখলুকাতকে ক্ষমা করে দিবেন। শুধু মুশরিক ও হিংসা-বিদ্বেষকারী ব্যতীত।" (ইবনে মাযাহ্, আহমদ, মিশকাত শরীফ)

আমল সমূহঃ

   পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র শা’বান মাস উনার পনের তারিখ যে রোযা রাখবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।” সুবহানাল্লাহ! “যে ব্যক্তি পবিত্র শা’বান মাসে তিনটি রোযা রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! যারা তিনটি রোযা রাখবে তারা ১৩, ১৪ ও ১৫ই শা’বান ১৪৩৪-হিজরী , রোববার, সোমবার শরীফ ও মঙ্গলবার দিনে রোযা রাখবে। আর যদি তিনটি রোযা রাখা সম্ভব না হয় তবে অন্ততঃপক্ষে শবে বরাত উনার পরের দিন অর্থাৎ ১৫ই শা’বান ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি বা মঙ্গলবার দিনের রোযাটি রাখবে।   আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র শা’বান মাস উনার রোযার ইফতারীর সময় যে তিনবার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, তার পূর্বের গুনাহখাতা ক্ষমা করা হবে এবং রিযিকে বরকত দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! “তোমরা কোনো নেক কাজকেই ছোট মনে করো না বা কোনো নেকীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করো না।” কাজেই ‘সারা বছর নামায পড়ে না, রোযা রাখে না, এখন পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে একদিন নামায-কালাম পড়ে কি হবে’- এরূপ কথা বলে ইবাদত-বন্দেগী থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা, নিরুৎসাহিত করা কাট্টা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ সরকারসহ পৃথিবীর সকল মুসলিম অমুসলিম সরকারের উচিত পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কমপক্ষে তিন দিন অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ই শা’বান শরীফ ছুটি ঘোষণা করা এবং মুসলমান উনাদের পবিত্র শবে বরাত পালনে সর্বপ্রকার সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা করা।

তারিখঃ

এ বছরের জন্য আগামী ২৫ আউওয়াল-১৩৮১ শামসী সন, ২৪ জুন-২০১৩ ঈসায়ী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ দিবাগত রাতই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত ছাত্র আন্‌জুমান আল বাইয়্যিনাত, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ।

1 টি মন্তব্য

  • MNURUNNABI

    :coffee: :cake: :pizza: :watermelon: :bowl: :plate: :can: :heart: :brokenheart: :rose: :deadrose: :moon: :star: :sun: :cloudy: ***আসুন আমরা সবাই শবে বরাত পালন করি এবং যথাযথ আমল করার কোশেশ করি**** :rain: :thunder: :umbrella: :rainbow: :musicnote: :airplane: :car: :island: :announce: :mail: :cell: :phone: :camera: :clock: :lamp: :search: :coins: :computer: :present: :clover: :hammer: :knife: :handcuffs: :pill:

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।