সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

যাকাত সম্পর্কিত বিধি নিষেধ

বর্তমানে দেখা যায় যাকাতদাতাগণ যাকে খুশি তাকে যাকাত বা অন্যান্য দান-ছদক্বা দিয়ে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে যাকাত বা অন্যান্য দান-ছদক্বা কিরূপ ব্যক্তিকে দেয়া উচিত। এ বিষয়ে সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধি-নিষেধ সম্পর্কিত আলোচনা নিম্নরূপ পবিত্র যাকাত দ্বীন ইসলাম উনার পাঁচটি বুনিয়াদের মধ্যে অন্যতম বুনিয়াদ। পবিত্র যাকাত মালী ইবাদত। খিলাফতের যুগে যাকাতের মাল-সম্পদ বাইতুল মালে জমা হতো। সেখান থেকে খলীফার পক্ষ হতে যাকাতের হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই খিলাফতের ব্যবস্থা না থাকায় পবিত্র যাকাতদাতাগণ নিজেই যাকাতের মাল হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে থাকেন। এ কারণে পবিত্র যাকাতদাতার মধ্যে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গইরুল্লাহ অর্থাৎ রিয়া বা লৌকিকতা এ ধ্বংসাত্মক বদ স্বভাবটির জন্ম নেয়। ফলে তার পবিত্র যাকাত কবুল হওয়ার বিপরীতে বরবাদ হয়ে যায়। এছাড়া সে এমন সব লোককে পবিত্র যাকাত দেয় যাদের আক্বীদা ও আমলের মধ্যে কুফরী রয়েছে অথবা যারা হারাম-নাজায়িয, বিদয়াত-বেশরা কাজে মশগুল অথবা যারা নামায-কালাম পড়ে না, পর্দা-পুশিদায় চলেনা, গান-বাজনা করে, টিভি-সিনেমা দেখে, খেলাধুলা করে ইত্যাদি; যা চরম ফাসিকী ও নাফরমানী কাজের অন্তর্ভুক্ত অথবা এমন সব মাদরাসায় পবিত্র যাকাত দেয় যেসব মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পর্দা নেই, হারাম খেলাধুলায় লিপ্ত, হারাম দল-মত ও আন্দোলনের সাথে জড়িত অর্থাৎ হক্কানী আলিম- আল্লাহওয়ালা হওয়ার পরিবর্তে তাদের উদ্দেশ্য থাকে গইরুল্লাহ অর্থাৎ দুনিয়াবী ফায়দা হাছিল করা। এদেরকে পবিত্র যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া ইত্যাদি ফরয, ওয়াজিব দান-ছদকা দেয়া মোটেই শরীয়ত সম্মত নয়। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- تعاونوا على البر والتقوى ولاتعانوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب. অর্থ: তোমরা নেকী ও পরহিযগারীর মধ্যে সাহায্য করো। আর পাপ ও শত্রুতা অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতা বা নাফরমানীর মধ্যে সাহায্য করো না। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২) তাই যাকাতদাতাগণ যেনো সঠিক স্থানে উনাদের পবিত্র যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদকা দিয়ে পরিপূর্ণ ফায়দা হাছিল করতে পারেন সেজন্যেই যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদ আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার, শরয়ী পর্দা পালন ও সুন্নতের পাবন্দ হওয়ার বর্তমানে একমাত্র দ্বীনী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ সুন্নতী মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

1 টি মন্তব্য

  • কনভার্টার

    সহমত।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।