......

বেশুমার শুকরিয়া,ছলাত ও সালাম প্রানের আক্বা,নুরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ মামদূহ হযরত আস সাফ্ফাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার মহা সম্মানিত নুরানী আহাল পাক উনাদের নুরী ক্বদম মুবারকে । এজন্য যে,এ ফিৎনা-ফাসাদের জামানায় উনারা আমাদের দয়া-ইহসান করে ঈমান দান করেছেন এবং হক্ব-না হক্ব বাতলে দিয়েছেন।যার কারণে আমাদের পক্ষে সহজ ও সম্ভব হচ্ছে হালাল-হারাম পার্থক্য করে সে অনুযায়ী আমল করা ।তা না হলে কখনোই সম্ভব হতো না অজস্র হালাল নামক হারামের ভিড় এড়িয়ে চলা/ এড়িয়ে চলার কোশেশ করা ।।
আমরা আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারি যে,উনাদের নেক সোহবতে না আসার ফলে মানুষগুলোর আক্বলের কি নিদারুন কঠিন আবস্থা!অথচ ভাবতে অবাক লাগে যে,আমাদেরও অবস্থা এরকমই ছিল উনাদের নেক সোহবত মুবারক লাভ করার পূর্বে ।মাঝে মাঝে হাসিও পায়,মানুষগুলো কি বিশ্রীভাবে কিছু ভুল বিশ্বাস এবং মনগড়া কিছু বাধাঁ শেখানো বুলিকে ঐশীবাণীর মতো করে আঁকড়ে ধরে বসে থাকে।যেন এগুলোর উপর কোনো কথা থাকতেই পারে না!বিভ্রান্ত এই মানুষগুলো ইজমা-ক্বিয়াস উনাদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে ছবি তুলে হজ্জ্ব করতে যাওয়াকে! (নাউজুবিল্লাহ)
সচেতনতার নিমিত্তে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এই হারাম জিনিসটা নাকি ইজমা করে দেয়া হয়েছে!এদের বোঝানোই যায় না যে,হালালের সাথে কখনো হারামের সংমিশ্রন করা যাবে না!!নিজেদের বিবেক খুইয়ে দিতে দিতে অবশেষে এরা এদের মাথাটাও শয়তানের কাছে সমর্পণ করে দিয়েছে!
এই মাথা খোয়ানো জাতি খেলাধূলাকে স্বাস্থ্যরক্ষার এবং বিনোদনের উপকরণ মনে করে থাকে ।অথচ আমারই পরিচিত এক ব্যক্তি কথিত এই বিনোদনের উপকরণ দিয়ে বিনোদিতো হতে গিয়ে স্টেডিয়ামে চিৎকার করে উল্লাস প্রকাশ করতে করতে কন্ঠনালীর চৌদ্দটা বাজিয়ে এসেছে।বেশ কিছুদিন তাকে এখন কথা বন্ধ রাখতে হবে (জবান প্রায় বন্ধ!)।স্বাস্থ্যরক্ষার কি হাল!!!!
টেলিভিশন নাকি খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস!!!কারণ এর দ্বারা এখন ঘরে ঘরে টিকাদান কর্মসূচীর খবর পৌঁছে!টিভি ছাড়া আমার পক্ষে কয়টা ঘরে খবর পৌঁছানো সম্ভব হতো?!?
এরা আবার মনে করে গা-হাত-পা কাপড়ে ঢেকে রাখাই পর্দা ! আপনি যতই আঁটসাঁট করে পোশাক পড়েন না কেন!মাথার উপর হিজাব থাকাটাই অনেক বড় ব্যাপার!সব পর্দাটাই মাথায় করে ঘুরে!!!
মায়া মমতা অপরিসীম এদের।মুসলিম ধর্মভীরু মানুষের প্রতি এদের যতনা দরদ,তার চাইতে বেশি দেখা যায় অমুসলিমদের প্রতি!(নাউজুবিল্লাহ)। “অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না” আপনি একথা বলবেন তো আপনাকে গোঁড়া বলা হবে!অদ্ভুত অবস্থা!
যিনি খলিক্ব,যিনি মালিক,যিনি রব মহান আল্লাহ্ পাক উনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এতোবার করে এতো স্পষ্ট করে সতর্ক করে দিলেন...তবুও মানুষগুলো কোনো ভ্রুক্ষেপই করে না মহান রব তা’আলা উনার নির্দেশ মুবারক উনাদের প্রতি...
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
“তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদী অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন,
“আহলে কিতাব তথা ইহুদী-নাছারাদের অধিকাংশই তাদের হিংসাবশত এই কামনা (ষড়যন্ত্র) করে যে, ঈমান আনার পর তোমাদেরকে কাফির বানানোর জন্য।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
“ইহুদী-নাছারারা তথা কাফির-মুশরিকরা কখনো তোমাদের (মুসলমানদের) প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাদের ধর্ম গ্রহণ না করবে বা অনুগত না হবে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন
,“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
“হে ঈমানদাররা! তোমরা ঈমানদার ব্যতীত অন্য কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করনা। তারা তোমাদের ক্ষতি সাধনে কোন ত্রুটি করে না। তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসূত বিদ্বেষ তাদের মুখেই প্রকাশ হয়ে পড়ে আর যা কিছু তাদের অন্তরে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। আমি তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দিলাম। যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও। দেখ! তোমরাই তাদের ভালোবাস, কিন্তু তারা তোমাদের প্রতি মোটেও সদভাব পোষণ করে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস কর। অথচ তারা যখন তোমাদের সাথে এসে মিশে, বলে, আমরা ঈমান এনেছি। পক্ষান্তরে তারা যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন তোমাদের উপর রোষবশতঃ আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। আপনি বলুন, তোমরা তোমাদের গোস্বায় মরে যাও। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি মনের কথা ভালই জানেন। তোমাদের যদি কোন মঙ্গল হয়; তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে আনন্দিত হয় আর তাতে যদি তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনই ক্ষতি হবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে সে সমস্তই মহান আল্লাহ পাক উনার আয়ত্তে রয়েছে।”(পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৮-১২০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট প্রাণীকুলের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব হচ্ছে তারাই, যারা কাফির-মুশরিক। অতএব, তারা এমন যে, যারা ঈমানদার নয়।” (পবিত্র সূরা আনফাল : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
উপরোক্ত আয়াত শরীফগুলো দ্বারা স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, ইহুদী, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, মজুসী, মুশরিক, নাস্তিক সহ সকল বিধর্মীই মুসলমানদের প্রধান শত্রু । তাদের ধর্মের মুল ভিত্তিই হচ্ছে ইসলাম ধর্মের বিরোধীতা করা, মুসলমানদের নির্যাতন করা, ক্ষতিসাধন করা ইত্যাদি। তাই সকলের মুসলমানদেরকে তাদের শত্রু চিনতে হবে ,তাদের প্রবর্তিত কোনো তর্য-তরীকা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
আর আল্লাহওয়ালা উনাদের মুবারক সোহবোত ব্যতিরেকে কস্মিনকালেও সম্ভব নয় এদের কুচক্রী থেকে বেঁচে থাকা!তাই সকলের উচিত যামানার যিনি লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ,যামানার যিনি ইমাম ও মুজতাহিদ,আওলাদূর রাসূল রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত আস সাফ্ফাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্বদম মুবারকে আসা এবং বাইয়াত গ্রহণ করে বেশি বেশি সোহবোত মুবারক ইখতিয়ার করা।মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সেই তৌফিক দান করুন...আমীন...।
1 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
জাগ্রত রজনী