
দৈনিক আল-ইহসান নামক
একটি আন্তজাতিক ও জাতীয়
পত্রিকায় আমার নিম্নোক্ত
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে।
লেখাটি কেমন
হয়েছে পড়ে জানাবেন।
লেখাটির #Internet link
শেষে দেওয়া হলো:::
আপনাদের মতামত - ১৩ আগস্ট, ২০১৪
# বিষয় : দেশের জনগণ কি দক্ষিণ
তালপট্টি চায়?
-মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সবুজ।
বিবরণ: দক্ষিণ তালপট্টি কোথায়
আছে খুঁজে বের করুক -
প্রধানমন্ত্রী হাসিনা
সম্প্রতি কথাটা ফলাও
করে ছেপেছে জাতীয় দৈনিকসহ
প্রায় সব দৈনিকে। বিষয়
হচ্ছে দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য
দেশের জনগণ কি সাপোর্ট করে? উত্তর
হবে- “না”। কেননা দেশের সম্পদ
প্রধানমন্ত্রীর না হতে পারে কিন্তু
অবশ্যই তা দেশের জনগণের।
প্রসঙ্গক্রমে এসে যায় দক্ষিণ
তালপট্টি কি? কিভাবে
কথাটি Talk of the month হলো- তা অবশ্যই
ভাববার বিষয়। উত্তর হলো দক্ষিণ
তালপট্টি বাংলাদেশের
একটা ছোট্ট দ্বীপ ছিল।
যা আগে দৃশ্যমান ছিল এখন
বলা হচ্ছে তা সাগরের
পানিতে মিশে গেছে। যার অবস্থান
সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও
বৈদেশিক
কূটনীতি অনেকাংশে ভারত
নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত। তাই
অনেকের
দাবি সমুদ্রসীমা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক
আদালতে দেশের স্বার্থ রক্ষায়
সরকারের অবস্থান ছিল দুর্বল।
একারণেই দক্ষিণ তালপট্টি-সহ ৬
হাজার বর্গ কিলোমিটারের
চেয়ে বেশি সীমানা বাংলাদেশের
হাতছাড়া হয়েছে। মূলত ৬ হাজার
বর্গকিলোমিটার না, তার
চেয়ে অনেক
বেশি এলাকা বাংলাদেশের
হাতছাড়া হয়েছে।
দেশপ্রেম অবশ্যই
প্রত্যেকটা নাগরিকের জন্মগত
অধিকার বা বৈশিষ্ট্য, যদি সে প্রকৃত
দেশকে ভালোবেসে থাকে। একজন
বাংলাদেশীর
মাঝে বাংলাদেশের
প্রতি যে ভালোবাসা আছে তা অন্য
দেশীয় লোকের মাঝে বিদ্যমান
না থাকাটাই স্বাভাবিক।
অন্যদেশীয় লোক যে বাংলাদেশের
প্রতি ভালোবাসা দেখাবে না তা আরেকবার
প্রতিফলিত হলো।
বলছিলাম বিচারক নিয়োগ প্রসঙ্গে।
যেখানে ভারত তার দেশের একজন
বিচারক নিয়োগ দিলো,
সেখানে বাংলাদেশ অন্যদেশ
থেকে বিচারক নিয়োগ দিলো।
বিষয়টা খুবই দুঃখজনক যে,
বাংলাদেশ নিজ দেশ
থেকে নিয়োগ না দিয়ে কেন
ঘানা থেকে নিয়োগ দিলো?
তা অবশ্য অবশ্যই বাংলাদেশের
লোকজন জানতে চায়। একজন
ঘানাবাসীর বাংলাদেশের
প্রতি যে ভালোবাসা আছে,
তা একজন বাংলাদেশীর সমান না।
বাংলাদেশ ভারত সমুদ্রসীমা রায়
নিয়ে দেশের সরকার দলীয় লোকজন
আনন্দ মিছিল করেছে। এটা নিছক
আইওয়াশ আর
ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছু না।
প্রসঙ্গ এসে যায়,
তাহলে কি বাংলাদেশেরই জয়
হয়েছে? উত্তর হবে- না।
কেননা বাংলাদেশের
যেখানে নিজ দেশ
থেকে কাউকে নিয়োগ দেয়নি,
অপরদিকে ভারত নিজ দেশ
থেকে একজন বিচারক রেখেছে,
সেখানে বাংলাদেশের জয় হয়
কিভাবে? তা অবশ্যই বাংলাদেশের
জনগণ জানতে চায়।
আবার বিচারকদের ভিতর ভারতীয়
একজন থাকা সত্ত্বেও ভারত কি ঠকেই
গেল?
মূলত বিষয়টা একটা গল্পের
সাথে মিলে যায়- গল্পটা হচ্ছে এক
মদন বাজার
থেকে ১০০টা কলা কিনে আনছিল
পথিমধ্যে একজন চালাক হিন্দু লোক
মদনের কলার
ঝুড়ি ফেলে দিলো এবং সেখান
থেকে কিছু কলা দাবি করলো। শুধু
দাবিই করলো না, শালিসও ডাকলো।
এবার সালিশে কিছু বিচারক ছিল,
যার মধ্যে ঐ হিন্দু লোকটার পক্ষের
একজন ছিল। আচ্ছা এবার বিচারকগণ
বিচার
করলো যে ১০০টা কলা থেকে ২৪টা কলা পাবে হিন্দু
লোকটা আর মদন পাবে ৭৬টি কলা।
এতেই মদন খুশি হয়ে গেল এবং আনন্দ
প্রকাশ করতে লাগলো।
তারপরও হিন্দুলোকের পক্ষের বিচারক
বলতে লাগলো বিচারটা ঠিকমতো হয়নি।
ঠিক তেমন অবস্থা আমাদের দেশের
সরকারের। সরকার কি ঐ মদনের
মতো বলতে চাচ্ছে ১০০ কলার
২৪টা আমাদের কখনোই ছিল না?
অথবা ২৪টা কলা যদি পচে যায়
তবে কি মদন বলবে ২৪টা কলা তার
কখনোই ছিল না।
বিষয় হচ্ছে- বাংলাদেশের
সীমানা হারিয়ে যাক,
তলিয়ে যাক, পচে যাক
তা তো বাংলাদেশেরই সম্পদ।
তা আরেক দেশ
বিচারে পেয়ে গেলে কি করে আমরা সহজেই
মেনে নিতে পারি? এদিকে রায়
ঘোষণার আগেই সরকার পক্ষের লোকজন
বলতে লাগলো রায়ে ফল যাই হোক
তার জন্য সরকার
কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না।
বিষয়টা দেশের জনগণের কাছে খুবই
সন্দেহজনক। প্রশ্ন এসে যায়-
তাহলে আমরা স্বাধীন,
নাকি পরাধীন? স্বাধীন দেশ
হয়ে থাকলে বিষয়টা নিয়ে আমাদের
আরো তৎপর হতে হবে। নয়তো দেশের
জনগণ কখনোই এই
দুরভিসন্ধি মেনে নিবেন।
# মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সবুজ
# ইন্টারনেট link : http://www.al-ihsan.net
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।