বাংলাদেশে হিন্দুয়ানী ফিতনার সাথে সাথে একটি ফিতনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এই ফিতনার নাম হল “ঈসায়ী মুসলিম” বা ইংরেজিতে “Je suis Muslim” নামে পরিচিত। বেশ কয়েক বছর আগে একটি পত্রিকা বিক্রয় কেন্দ্রের এক বিক্রেতা আমাকে জানালো তাদের কাছে কিছু শাদা চামড়ার লোক কিছু ইসলামী কিতাব ফ্রি বিক্রি করার জন্য দিয়ে যায়। কিন্তু তারা পরে দেখতে পায় এই কিতাব গুলো ইসলাম নিয়ে উল্টা পাল্টা লিখা। আমি বিষয়টি আমাদের একজন ভাই কে বলতে তিনি আমাকে জানালেন যে কিছুদিন আগে সিলেটের কোন একটি অঞ্চলে বেশকিছু মসজিদের মাওলানা ধরা পড়ে জারা ঈসায়ী মুসলিম নামে একটি নতুন ধর্ম প্রচার করছিল। কিন্তু বিষয়টি ফাঁশ হয়ে জাওয়ার পরে তারা সটকে পড়ে। আমি ধারণা করেছিলাম বিষয়টি হয়তো বেশিদূর এগুবেনা কিন্তু যখন জানতে পারলাম অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তর বঙ্গে ৩০-৩৫ জন মাওলানা বাংলাদেশের কোন এক সচিব এর তত্বাবধানে ইন্দোনেশিয়া যায় এবং সেখান থেকে ব্যাপক আর্থিক ভাবে বেনিফিটেড হয়ে তারা বাংলাদেশে ঈসায়ী মুসলিম আক্বীদা প্রচারে সম্মত হয়। তাদের এই বিষয়টি ও ফাঁশ হয়ে পড়ে জখন তারা ঈসায়ী মুসলিম আক্বীদার কিতাব গুলো মাদ্রাসায় পড়াতে যায় ও বিলি করতে যায়। আমার মাথায় তখন চিন্তা আশে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টানরা বিভিন্ন মিশনারির ও এনজিওর মাধ্যমে তাদের ধর্ম প্রচার করতে করতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এখন আলাদা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে বিভোর। অন্যদিকে আমাদের দেশে তাদের এই খ্রিষ্টানিজমকে গিলাতে মুসলমান দের ফ্লেক্সিবল করার জন্য আন্তঃধর্মীয় আলোচনার নামে সর্ব ধর্মের লোকদের একসাথে করে বলছে মানবতার ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। এই ফিতনা থেকে বাচতে পারছেনা স্বয়ং আমাদের জাতীয় মসজিদের ইমামও। তাই এই ফিতনা থেকে বাচার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস স্বরূপ “কিতাবুল মোকাদ্দস, ইঞ্জিল শরীফ শরীফ ও ঈসায়ী ধর্ম” নামক কিতাব আপনাদের কাছে তুলে ধরছি। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সকল প্রকার ফিতনা থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন!
_________________________________________
পূর্বের প্রকাশ:
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০১
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০২
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০৩
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০৪
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০৫
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০৬
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০৭
ঈসায়ী মুসলিম (একটি ফিতনা) থেকে সাবধান মুসলমান! ০৮
_________________________________________
৪. ৯. পবিত্র আত্মার ঈশ্বরত্ব
পবিত্র আত্মা: পাক রূহ (Holy Spirit), পবিত্র ভূত (Holy Ghost), ঈশ্বরের আত্মা (Spirit of God/ Spirit of the LORD) শব্দগুলি বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মে অনেক স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে। কোথাও একে ‘ঈশ্বর’ বা ‘ঈশ্বরের তিন ব্যক্তির এক ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করা হয় নি। বরং কখনো মানুষ, কখনো নবী, কখনো ফিরিশতা এবং কখনো আল্লাহর প্রেরণা বুঝানো হয়েছে। যেমন: “সদাপ্রভু কহিলেন, আমার আত্মা মনুষ্যদের মধ্যে নিত্য অধিষ্ঠান করিবে না; কারণ সেও তো মাংস মাত্র (My Spirit shall not always strive with man, for that he also is flesh) পরন্তু তাহাদের সময় এক শত বিংশতি বৎসর হইবে। (আদিপুস্তক ৬/৩) এখানে আল্লাহর আত্মা বলতে সুস্পষ্টত আল্লাহর সৃষ্ট মানবাত্মা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর রূহ বা মানবাত্মা অমর হবে না; বরং সীমিত বৎসর- ১২০ বৎসর!- আয়ু লাভ করবে।
অন্যত্র আল্লাহ মৃতদেরকে জীবন দান প্রসঙ্গে বলেন: “আর আমি তোমাদের মধ্যে আপন আত্মা দিব (And shall put my spirit in you)।” (যিহিষ্কেল ৩৭/১৪)। এখানেও “আল্লাহর রূহ” বলতে ‘মানবীয় আত্মা’ বা জীবন বুঝানো হয়েছে।
প্রচলিত ইঞ্জিল শরীফগুলির মধ্যে বিদ্যমান ঈসা মাসীহের বক্তব্যে পবিত্র আত্মা ও পবিত্র ভূতের কথা কয়েকবার এসেছে। কোথাও তিনি তাকে আল্লাহ বা আল্লাহর তিন ব্যক্তির একব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন নি। বরং বাহ্যত তিনি তাঁকে আল্লাহর ওহীর বাহক হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, মনুষ্যদের সকল পাপ ও নিন্দার ক্ষমা হইবে, কিন্তু পবিত্র আত্মার নিন্দার ক্ষমা হইবে না। আর যে কেহ মনুষ্যপুত্রের (ঈসা মাসীহের) বিরুদ্ধে কোনো কথা কহে সে ক্ষমা পাইবে, কিন্তু যে কেহ পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে কথা কহে সে ক্ষমা পাইবে না, ইহকালেও নয়, পরকালেও নয়।” (মথি ১২/৩১-৩২)
এখানে পবিত্র আত্মা অর্থ ওহীর বাহক। পবিত্র আত্মার মাধ্যমেই নবীগণ ওহী লাভ করেন। এজন্য যীশু বললেন, যদি কেউ সত্য নবীর ওহী লাভের দাবি অবিশ্বাস করে অথবা ওহীর নামে মিথ্যা বলে তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে শাস্তি পেতে হবে। এজন্যই বাইবেলের বিধান: ওহীর নামে মিথ্যা বললে দুনিয়াতেই নিহত হতে হবে।
সাধু পলই সর্বপ্রথম পবিত্র আত্মা বা ঈশ্বরের আত্মা বলতে পৃথক ঐশ্বরিক সত্ত্বা ও স্বয়ং সম্পূর্ণ ঈশ্বর বলে দাবি করেন। (রোমীয় ৮/২)
৪. ১০. আদিপাপ ও প্রায়শ্চিত্তবাদ (Original Sin & Atonement)
সাধু পল উদ্ভাবিত ধর্মের অন্যতম বিশ্বাস আদিপাপ ও প্রায়শ্চিত্ত, যার মূল কথা:
“আদম নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করে মহাপাপ করেন। এজন্য কিয়ামত পর্যন্ত সকল আদমসন্তানের শাস্তি ও অনন্ত মৃত্যু পাওনা হয়। ‘পিতার অপরাধে সকল সন্তানের নরক-গমনের’ এ “দয়াময়” ব্যবস্থায় দয়াময় স্রষ্টা অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়েন। বিনা রক্তপাতে মানুষকে ক্ষমা করতে অক্ষম হয়ে তিনি নিজের পুত্রকে কুরবানি করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, পাপের জন্য পাপী নিজের বা পাপীর সন্তানগণ রক্তপাত করলে হবে না! বরং নিরপরাধ-নিষ্পাপ কাউকে ধরে কুরবানি দিতে হবে। এজন্য স্রষ্টা নিজের আপন পুত্রকে কুরবানি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠান। তিনি ক্রুশে মরে অভিশপ্ত হয়ে নরকে প্রবেশ করেন। তিনদিন নরক ভোগ করেন এবং শয়তানের হাত থেকে নরকের চাবি কেড়ে নিয়ে মানুষদেরকে চিরতরে মুক্ত করে দেন। এখন মানুষ যত পাপই করুক না কেন যীশুর ঈশ্বরত্বে ও কুরবানীতে বিশ্বাস করলেই নরক থেকে চিরমুক্তি!”
চিন্তা করুন! আল্লাহ একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দিবেন! পাপী ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা করতে পারবেন না! পাপী বা তার সন্তানগণ কাফ্ফারা-কুরবানী দিলে হবে না, পাপীর অপরাধে নিষ্পাপকে কুরবানী দিতে হবে! একজন খৃস্টান লেখক লিখেছেন:
"No heathen tribe has conceived so grotesque an idea, involving as it does the assumption, that man was born with a hereditary stain uopn him, and that this stain (for wihch he was not personally responsible) was to be atoned for, and that the creator of all things had to sacrifice His only begotten son to neutralise this mysterious curse."
“কোনো নাস্তিক জংলী উপজাতিও এরূপ উদ্ভট বিশ্বাস পোষণ করে না যে, মানুষ বংশগতভাবে পাপের কলঙ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং এ কলঙ্ক, যার জন্য সে নিজে কোনোরূপ দায়ী নয়, তার জন্য কাফ্ফারা দিতে হবে এবং এ রহস্যময় অভিশাপকে অকার্যকর করতে সকল কিছুর স্রষ্টা নিজের একমাত্র ঔরসজাত সন্তানকে কুরবানী দিতে বাধ্য হলেন।” (Ahmed Deedat, The Choice, Volume 2, page 165.)
ইঞ্জিল শরীফ উনার মাসীহ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রেফতারের আগের রাতে মাটিতে মাথা ঠুকে কেঁদেছিলেন ও প্রার্থনা করেছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি চিৎকার করে বলেন: “আল্লাহ তুমি কেন আমাকে পরিত্যাগ করলে!” (মথি ২৬/৩৬-৪৬, ২৭/৪৬)। অপরাধীর মুক্তির জন্য একজন অনিচ্ছুক নিরাপরাধীকে জোর করে হত্যা করতে হবে!
এ আকীদার সবচেয়ে বড় দিক ঈশ্বরের মহানুভবতা! শাস্তির ক্ষেত্রে অকৃপণ ও মহানুভব হলেও মুক্তির ক্ষেত্রে কৃপণ! (নাঊযু বিল্লাহ) আদমের পাপের কারণে শাস্তি পেতে কোনো মানুষের কোনো বিশ্বাস বা স্বীকারোক্তির প্রয়োজন নেই। ফ্রি শাস্তি! তবে যীশুর ত্যাগের কারণে মুক্তিটা ফ্রি নয়! বরং বিশ্বাস ও স্বীকারোক্তি লাগবে!
সাধু পলের ভাষায়: “একটা পাপের মধ্য দিয়া যেমন সমস্ত মানুষকেই আজাব পাইবার যোগ্য বলিয়া ধরা হইয়াছে, তেমনি একটি ন্যায্য কাজের মধ্য দিয়া সমস্ত মানুষকেই নির্দোষ বলিয়া গ্রহণ করিবার ব্যবস্থাও করা হইয়াছে। যেমন একজন মানুষের অবাধ্যতার মধ্য দিয়া অনেকেই পাপী হইয়াছিল, তেমনি একজন মানুষের বাধ্যতার মধ্য দিয়া অনেকেই নির্দোষ বলিয়া গ্রহণ করা যাইবে।” (রোমীয় ৫/১৭-১৮)... “রক্তসেচন (রক্তপাত) না হইলে পাপমোচন হয় না।” (ইব্রীয়: ৯/২২) পুনশ্চ: (রোমীয় ৪/২৫, ৫/১২, ১৪, ১০/৯; গালাতীয় ৩/১০-১৩; ইফিষীয় ১/৭; করিন্থীয় ১৫/২১-২২)।
এ উদ্ভট আকীদার দুটি বিষয়ই ভিত্তিহীন অসত্য (১) একের পাপে অন্যের শাস্তি ও একের ত্যাগে অন্যের মুক্তি এবং (২) রক্তপাত ছাড়া পাপমুক্তি হয় না।
কিতাবুল মোকাদ্দসের বিধান: “প্রত্যেক জন আপন আপন অপরাধ প্রযুক্ত মরিবে” (যিরমিয় ৩১/৩০)। “যে প্রাণী পাপ করে সে-ই মরিবে।” (যিহিষ্কেল ১৮/৪)। পুনশ্চ: দ্বিতীয় বিবরণ ২৪/১৬, ২-রাজাবলি ১৪/৬; ২-বংশাবলি ২৫/৪।
যিহিস্কেল ১৮/১৯-২৩: “তবুও তোমরা বলছ, ‘বাবার দোষের জন্য কেন ছেলে শাস্তি পাবে না?’ সেই ছেলে তো ন্যায় ও ঠিক কাজ করেছে এবং আমার সমস্ত নিয়ম কানুন যত্নের সংগে পালন করেছে, তাই সে নিশ্চয়ই বাঁচবে। যে গুনাহ করবে সে-ই মরবে। ছেলে বাবার দোষের জন্য শাস্তি পাবে না আর বাবাও ছেলের দোষের জন্য শাস্তি পাবে না। সৎ লোক তার সততার ফল পাবে এবং দুষ্ট লোক তার দুষ্টতার ফল পাবে। কিন্তু একজন দুষ্ট লোক তার সব গুনাহ থেকে ফিরে আমার সব নিয়ম-কানুন পালন করে আর ন্যায় ও ঠিক কাজ করে তবে সে নিশ্চয়ই বাঁচবে, মরবে না। সে যেসব অন্যায় করেছে তা আমি আর মনে রাখব না। সে যেসব সৎ কাজ করেছে তার জন্যই সে বাঁচবে। দুষ্ট লোকের মরণে কি আমি খুশী হই? বরং সে যখন কুপথ থেকে ফিরে বাঁচে তখনই আমি খুশী হই।
এতে প্রমাণ হয় (১) একের পাপে যেমন অন্যের শাস্তি এবং একের ত্যাগে অন্যের মুক্তির দাবি শতভাগ মিথ্যা এবং আল্লাহর নামে বে-ইনসাফির অপবাদ, (২) পাপীর মুক্তির জন্য কাফ্ফারা বা রক্তপাত নিষ্প্রয়োজন; তাওবা ও ধর্মপালনই যথেষ্ঠ। আর এটিই তো আল্লাহর ইনসাফ, দয়া ও মমতার প্রকাশ।
এভাবে বাইবেলে আল্লাহ বারংবার বলেছেন যে, পাপীর মুক্তির জন্য তিনি কাফ্ফারা বা কুরবানী চান না; বরং পাপীর ঈমান, তওবা ও নেক কর্ম চান: “আমি বিশ্বস্ততা চাই, পশু-কোরবানী নয়: পোড়ানো-কোরবানীর চেয়ে আমি চাই যেন মানুষ সত্যিকারভাবে আল্লাহ্কে চেনে। (হোশেয় ৬/৬। মথি ৯/১৩ ও ১২/৭)
ইঞ্জিলে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস, সকল মনপ্রাণ দিয়ে তাঁকে ভালবাসা এবং প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসা- সকল কাফ্ফারার চেয়ে অধিক শক্তিশালী এবং এরূপ বিশ্বাস ও কর্ম থাকলেই সে জান্নাতী (মার্ক ১২/৩২-৩৪)
যীশু বলেন: “মনুষ্যদের সকল পাপ ও নিন্দার ক্ষমা হইবে, কিন্তু পবিত্র আত্মার নিন্দার ক্ষমা হইবে না। আর যে কেহ মনুষ্যপুত্রের (যীশুর) বিরুদ্ধে কোনো কথা কহে সে ক্ষমা পাইবে, কিন্তু যে কেহ পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে কথা কহে সে ক্ষমা পাইবে না, ইহকালেও নয়, পরকালেও নয়।” (মথি ১২/৩১-৩৩)।
সাধু পলের মতবাদ সত্য হলে ঈসা মাসীহের কথা মিথ্যা বলতেই হবে! কারণ মাসীহ বলছেন যে, পাপ ক্ষমার জন্য অন্য কোনো বিষয় ধর্তব্য নয়, শুধু পাপের বড়ত্ব ও ভয়ঙ্করত্বই বিবেচ্য; এজন্য পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে অপরাধ, অর্থাৎ ওহীর নামে জালিয়াতি, কোনো সত্য নবীর প্রতি অবিশ্বাস বা শির্ক-কুফর-এর পাপ ক্ষমা করা হবে না, অন্যান্য পাপ ক্ষমা করা হবে। এর বিপরীতে সাধু পল বলছেন, পাপের গভীরতা বা বড়ত্ব বিবেচ্য নয়; বরং কাফ্ফারা তত্বে পাপীর বিশ্বাসই বিবেচ্য। কাফ্ফারা ছাড়া কোনো পাপই ক্ষমা হবে না। আর যীশুর রক্তে কাফ্ফারা তত্ত্বে বিশ্বাস করলে পবিত্র আত্মার নিন্দা-সহ সকল পাপই ক্ষমা হবে।
ইঞ্জিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষেরা কয়েকজন শিশুকে ঈসা মাসীহের নিকট দো‘আর জন্য নিয়ে আসে। কিন্তু শিশুদের তাঁর নিকট আনয়নকে অন্যায় মনে করে শিষ্যগণ লোকগুলির উপর রাগ করেন। এতে মাসীহ অসন্তুষ্ট হয়ে বলেন: “শিশুদেরকে আমার নিকট আসিতে দেও, বারণ করিও না; কেননা ঈশ্বরের রাজ্য এই মত লোকদেরই (for of such is the kingdom of God/ kingdom of heaven.। (মার্ক ১০/১৪) আরো দেখুন: মথি ১৯/১৪; লূক ১৮/১৬
তাহলে ঈসায়ী আকীদায় আদিপাপ বলে কিছুই নেই। কোনো মানুষই পাপ নিয়ে জন্মায় না বরং নিষ্পাপ জন্মগ্রহণ করে। বড় হয়ে মানুষ পাপ করে। কাজেই কেউ যদি বড় হয়ে করা পাপগুলি বর্জন করে শিশুদের মত হতে পারে তবে জান্নাত পাবে। পক্ষান্তরে পলীয় আকীদায় প্রত্যেক মানুষই আদিপাপ নিয়ে জন্মায়; শুধু পিতা-পুত্র-পবিত্র বিশ্বাসের মাধ্যমে মুক্তি পায়। এ বিশ্বাস ছাড়া পাপ বর্জন করে শিশুর মত হলেও কোনো লাভ নেই; আর এ বিশ্বাস থাকলে পাপ করলেও তেমন অসুবিধা নেই!
৪. ১১. মধ্যস্থ না সরাসরি
বিশ্বের সকল মুশরিক সম্প্রদায়ের শির্কের মূল ভিত্তি আল্লাহর দয়া বা ক্ষমা লাভ করতে মধ্যস্থ গ্রহণ প্রয়োজন বলে বিশ্বাস করা। তারা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাঁর প্রিয়তম কিছু বান্দাকে বিশেষ ক্ষমতা বা মধ্যস্থতার ক্ষমতা দিয়েছেন। এদের মাধ্যম ছাড়া আল্লাহর রহমত পাওয়া যায় না। যেমন রাজার নিকট যেতে প্রজাদের রাজার প্রিয়ভাজন খাদিমদের মধ্যস্থতার প্রয়োজন হয়। আর এ বিশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা দেবতা, মুর্তি, সেন্ট ইত্যাদির পূজা করেন বা তাদের কাছে ধর্ণা দেন।(এটি লেখকের নজস্ব মত। প্রকিত অর্থে আল্লাহ্ পাক উনার দয়া ক্ষমা পেতে মা্ধ্যম তলাব করা জায়ীজ। যেমন হযরত আদম আলাইহি সালাম উনার দুনিয় আগমনের পর দোয়া করার বিষয় টি।)
আসমানী গ্রন্থগুলির শিক্ষা: আল্লাহর দীন, ইবাদত ও কল্যাণ লাভের পদ্ধতি জানতে নবী-রাসূল ও আলিমগণের সহায়তা লাগে। তবে তাঁকে ডাকতে, প্রার্থনা করতে, তাঁর করুণা, সান্নিধ্য বা মুক্তি লাভ করতে কোনো মধ্যস্থতা লাগে না। কারণ তিনি মহারাজার মত প্রজা থেকে দূরে নন, প্রজা বিষয়ে অজ্ঞ নন এবং প্রজার প্রতি কঠোর নন। বরং তিনি মমতাময়, সর্বজ্ঞ এবং বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী। এ বিষয়ে মাসীহ বলেন: “তোমাদের পিতার কাছে চাইবার আগেই তিনি জানেন তোমাদের কি দরকার” (মথি ৬/৮) “চাও, তোমাদের দেওয়া হবে, খোঁজ কর, পাবে, দরজায় আঘাত দাও, তোমাদের জন্য খোলা হবে।” (মথি ৭/৭)
কিতাবুল মোকাদ্দসের নবীদের গ্রন্থগুলিতে এবং প্রচলিত ইঞ্জিল এর মধ্যে বিদ্যমান ঈসা মাসীহের বাণীতে কোথাও এ মধ্যস্থতার আকীদার বিন্দুমাত্র স্থান নেই। মধ্যস্থ (mediator) শব্দটি আপনি সাধু পলের পত্র ছাড়া কিতাবুল মোকাদ্দসের কোথাও পাবেন না। সাধু পল গ্রীক-রোমান পৌত্তলিকদের “মধ্যস্থ” বিশ্বাসকে ভিত্তি করে ঈসা মাসীহকে মধ্যস্থ বলে প্রচার করেন। তিনি বলেন: “কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন; ঈশ্বরের ও মনুষ্যদের মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থও আছেন; তিনি মনুষ্য খৃস্ট যীশু।” (১-তিমথীয় ২/৫-৬) এভাবে তিনি সর্বত্র মধ্যস্থ (mediator)-এর প্রয়োজনীয়তা এবং যীশুই মধ্যস্থ বলে প্রচার করতে থাকেন। দেখুন: গালাতীয় ৩/১৯, ২০; ইব্রীয় ৮/৬, ৯/১৫, ১২/২৪)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।