মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মদ বা নেশাজাতীয় সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে হারাম।

অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকস-এর নামে প্রকাশ্যে শরাব বা মদ বিক্রি হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু অর্থাৎ মদ বা মাদকদ্রব্যই সেবন করা হারাম।”
বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। পবিত্র দ্বীন ইসলাম এদেশের রাষ্ট্রদ্বীন।
অতএব, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে কোনোমতেই কোনো মোড়কেই শরাব বা মদ অর্থাৎ মাদকদ্রব্য চলতে পারে না।
কাজেই অতিসত্বর বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- মুসলমান হিসেবে মাদকদ্রব্য, শরাব বা মদ তৈরি, আমদানি ও বিক্রি পরিপূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়ে দেশকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম পাক উনার একাধিক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বান্দারা যেন হালাল ও পবিত্র রিযিক গ্রহণ করে আর হারাম ও অপবিত্র রিযিক পরিহার করে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যেসব পবিত্র হালাল রিযিক দিয়েছি, তা হতে তোমরা ভক্ষণ করো।” তিনি অন্যত্র আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “হালাল বা পবিত্র বস্তু থেকে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “অন্যান্য ফরযের পর হালাল কামাই করা ফরয।” আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “শরীরের যে গোশতের টুকরাটি হারাম ও অপবিত্র খাদ্যের দ্বারা তৈরি হয়েছে, তার জন্য জাহান্নামের আগুনই যথেষ্ট।”
যারা বলে- অ্যালকোহল ৫% অথবা এর চেয়ে কম হলে জায়িয রয়েছে (নাউযুবিল্লাহ!)- তাদের একথা সম্পূর্ণই ভুল। মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছে- অ্যালকোহল বা মদ এক কাতরা খাওয়াও হারাম। তাতে নেশা হোক বা না হোক। উল্লেখ্য, কেউ যদি এক বোতল মদ খাওয়ার পরও তার নেশা না হয় তাই বলে কি তার জন্য তা জায়িয হবে? কস্মিনকালেও না।
বর্তমানে অভিনব পন্থায় কথিত কোমল পানীয়ের বোতলে, এছাড়া কথিত এনার্জি ড্রিংক ও বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক শক্তিবর্ধক পানীয়ের মোড়কে নেশা উপকরণ মিশিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করছে। এরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় কারখানা তৈরি করে মাদক মিশ্রিত এ সব পানীয় বোতলজাত করছে।
এভাবে কথিত কোমল পানীয়ের আড়ালে ভয়াবহ মাদকের বিস্তার ঘটছে সারা দেশে। জীবনীশক্তি বিনাশী এ মাদক শুধু সহজলভ্যই নয়; বরং সস্তা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঠিকানাবিহীন কারখানায় চলছে কথিত ‘এনার্জি ড্রিংকস’ উৎপাদন।
নানা উদ্দীপক নামের এ পানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত সাঁড়াশি অভিযানের মুখেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। হট ফিলিংস, ট্রিপল এক্স, ফাস্ট ফিলিংস, পাওয়ার, স্পীড, এনার্জি, হর্স পাওয়ার, হর্স ফিলিংস, সুপার পাওয়ার, ফাস্ট হর্স, ম্যান পাওয়ারসহ নানা নামের কথিত ‘এনার্জি ড্রিংকস’ শরীরে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। আফিম থেকে উদ্ভূত উপাদানের মিশ্রণে তৈরি পানীয়গুলো দীর্ঘ মেয়াদে গ্রহণে স্নায়ুবিক দুর্বলতার পাশাপাশি চূড়ান্ত স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এতে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরাসহ যুব শ্রেণীই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।
দেশে এভাবে একটা উপার্জনক্ষম কর্মশক্তি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে। মূলত, পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ নেশার দ্রব্য অবাধে প্রবেশ করিয়ে এদেশের উপার্জনক্ষম পুরুষ ও যুবশক্তিকে যড়যন্ত্রমূলকভাবে নষ্ট করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। নাউযুবিল্লাহ!
এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। পবিত্র দ্বীন ইসলাম এদেশের রাষ্ট্রদ্বীন। আর মদ পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। তাই ১৯৭২-এর সংবিধানে শরাব বা মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো ।
আজ ৭২-এর সংবিধানের পুনঃপ্রবর্তনের কথা বলতে অনেক মহল সোচ্চার। কিন্তু তারা যে অর্থে সোচ্চার তা হলো- ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রবর্তনে। কিন্তু ৭২-এর সংবিধানে শুধু ধর্মনিরপেক্ষতারই উল্লেখ ছিল না। মদ ও জুয়া আক্ষরিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থের লক্ষ্যে এই নিষিদ্ধকরণের কথা কেউ উল্লেখ করছে না।
অতএব, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ কোনো আইন পাস হবে না’-এই ওয়াদাবদ্ধ সরকার থাকতে কী করে বাংলাদেশে শরাব বা মদ চলতে পারে?
কাজেই অতিসত্বর বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- শরাব বা মদ তৈরি, আমদানি ও বিক্রি পরিপূর্ণভাবে বন্ধ করা।
1 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
গোলামে মাদানী আক্বা