সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

কদমবুচি সমর্থনে দলিল সমূহ

কদমবুচি সমর্থনে দলিল সমূহ হাদীস থেকে ১নং হাদীসঃ ﻋﻦ ﺯﺍﺭﻉ ﻭﻛﺎﻥ ﻓﻰ ﻭﻓﺪ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻘﻴﺲ ﻗﺎﻝ ﻟﻤﺎ ﻗﺪﻣﻨﺎ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻭﺟﻌﻠﻨﺎﻧﺘﺒﺎﺩﺭ ﻣﻦ ﺭﻭﺍﺣﻠﻨﺎ ﻓﻨﻘﺒﻞ ﻳﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺭﺟﻠﻪ অর্থাৎ, হযরত যারেঈ রাদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু যিনি আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা যখন মদিনা শরীফে আগমন করলাম তখন আমাদের বাহন হতে তাড়াতাড়ি নেমে পড়লাম এবং রসূল- এ করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র হস্ত মোবারক ও পা মোবারক চুম্বন করলাম। — আবূ দাউদ শরীফের সূত্রে মিশকাতুল মাসাবীহ, পৃষ্ঠা: ৪০২ ২ নং হাদীসঃ ﻋﻦ ﺻﻔﻮﺍﻥ ﺑﻦ ﻋﺴﺎﻝ ﺍﻥ ﻗﻮﻣﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻗﺒﻠﻮﺍ ﻳﺪ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺭﺟﻠﻪ অর্থাৎ, হযরত ছাফওয়ান বিন আসলাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই ইয়াহুদীদের একটি গোত্র হুজুর এ পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র হাত ও পা মোবারক চুম্বন করে। — ইবনে মাজাহ পৃ: ২৯২। ৩ নং হাদীস হযরত বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন- ﺳﺄﻝ ﺃﻋﺮﺑﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻳﺔ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﻗﻞ ﻟﺘﻠﻚ ﺍﻟﺸﺠﺮﺓ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺪﻋﻮﻙ ﻓﻘﺎﻝ ﻓﻤﺎﻟﺖ ﺍﻟﺸﺠﺮﺓ ﻋﻦ ﻳﻤﻴﻨﻬﺎ ﻭﺷﻤﺎﻟﻬﺎ ﻭﺑﻴﻦ ﻳﺪﻳﻬﺎ ﻭﺧﻠﻔﻬﺎ ﻓﻘﻄﻌﺖ ﻋﺮﻭﻗﻬﺎ ﺛﻢ ﺟﺎﺀﺕ ﻳﺘﺨﺬ ﺍﻻﺭﺽ ﺗﺠﺮ ﻋﺮﻭﻗﻬﺎ ﻣﻐﺒﺮﺓ ﺣﺘﻰ ﻭﻗﻌﺖ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻯ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﻟﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻻﻋﺮﺍﺑﻰ ﻣﺮﻫﺎ ﻓﻠﺘﺮﺟﻊ ﺍﻟﻰ ﻣﻨﺒﺘﻬﺎ ﻓﺮﺟﻌﺖ ﻓﺪﻟﺖ ﻋﺮﻭﻗﻬﺎ ﻓﺎﺳﺘﻮﺕ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻻﻋﺮﺑﻰ ﺍﺋﺬﻥ ﻟﻰ ﺍﺳﺠﺪ ﻟﻚ ﻗﺎﻝ ﻟﻮ ﺃﻣﺮﺕ ﺍﺣﺪﺍ ﺍﻥ ﻳﺴﺠﺪ ﻻﺣﺪ ﻻﻣﺮﺕ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺍﻥ ﺗﺴﺠﺪ ﻟﺰﻭﺟﻬﺎ ﻗﺎﻝ ﻓﺄﺫﻥ ﻟﻰ ﺍﻥ ﺍﻗﺒﻞ ﻳﺪﻳﻚ ﻭﺭﺟﻠﻴﻚ ﻓﺎﺫﻥ ﻟﻪ অর্থাৎ, একজন বেদুঈন হুজুর এ পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র কাছে মুজিযা দেখতে চাইল, হুজুর এ পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেদুঈনকে এরশাদ করলেন ওই বৃক্ষটাকে বলো আল্লাহর রসূল তোমাকে ডাকছেন, সে যখন বললো বৃক্ষ তার ডানে-বামে, সম্মুখে পেছনে ঝুকল তখন ওটার শিকড়গুলো ভেঙ্গে গেল। তারপর তা মাটি খোদাই করে শিকড়গুলো টেনে বালি উড়িয়ে হুজুর এ পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সম্মুখে এসে দাড়াল এবং বলল আস্সালামু আলায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! বেদুঈন বললো “আপনি তাকে আদেশ করুন যেন এটা ওখানে (উৎপত্তিস্থল) ফিরে যায়” তাঁর নির্দেশে ওটা ফিরে গেল এবং তার শেকড়গুলোর উপর গিয়ে সোজা হয়ে দাড়ালো। বেদুঈন বললো “আমাকে অনুমতি দিন আমি আপনাকে সিজদা করবো” তিনি এরশাদ করলেন, “যদি কাউকে সাজদাহ করার হুকুম দিতাম তাহলে স্ত্রীকে আদেশ দিতাম সে যেন তার স্বামীকে সাজদাহ করে।” বেদুঈন লোকটি আরজ করলো “হুযুর তাহলে আমাকে আপনার হস্ত ও পদদ্বয় মোবারক চুম্বন করার অনুমতি দিন” তিনি (নবীজী দঃ) তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। — শিফা শরীফ, দালাইলুন্নুবয়্যাহ আবু না’ঈম, পৃষ্ঠা- ৩৩২। ৪ নং হাদীস ﺭﻭﻯ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻘﺒﻞ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﺍﺟﺪ ﻣﻨﻬﺎ ﺭﻳﺢ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﻗﺒﻞ ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺭﺃﺱ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺭﺟﻞ ﺍﻣﻪ ﻓﻜﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﻋﻨﺒﺔ ﺍﻟﺠﻨﺔ অর্থাৎ, হুযূর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, হযরত ফাতেমা (নবীজীর স্নেহের কন্যা) রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহাকে চুমু খেতেন আর তিনি বলতেন আমি ফাতেমা রদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছ থেকে বেহেশতের সুঘ্রান পাচ্ছি। হয়রত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহার মাথা মোবারক এ চুমু খেয়েছেন। আর প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি তার মায়ের পা চুম্বন করবে সে যেন বেহেশতের চৌকট চুমু খেল। — মাবসুত লিস সারাখছি, খন্ড-১০, পৃষ্ঠা: ১৪৯ ৫ নং হাদীস ﻋﻦ ﺫﻛﻮﺍﻥ ﻋﻦ ﺻﻬﻴﺐ ﻗﺎﻝ ﺭﺍﻳﺖ ﻋﻠﻴﺎ ﻳﻘﺒﻞ ﻳﺪ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﻭﺭﺟﻠﻪ অর্থাৎ হযরত যাকওয়ান রদ্বিয়াল্লাহু হযরত ছুহাইব সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুকে (স্বীয় চাচা) হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহুর হাত ও পা যুগল চুম্বন করতে দেখেছি। — মিশকাত শরীফ ফোক্বাহায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসীনে এজামদের থেকে হযরত আল্লামা ইমাম আইনী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- ﻗﺎﻝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺍﻟﻌﻴﻨﻰ ﺑﻌﺪ ﻛﻼﻡ ﻓﻌﻠﻢ ﺍﺑﺎﺣﺔ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻟﻴﺪ ﻭﺍﻟﺮﺟﻞ ﻭﺍﻟﺮﺃﺱ ﻛﻤﺎ ﻋﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﻤﺘﻘﺪﻣﺔ ﺍﺑﺎﺣﺘﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﺒﻬﺔ ﻭﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ ﻭﻋﻠﻰ ﺍﻟﺸﻔﺘﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﻤﺒﺮﺓ ﻭﺍﻟﻜﺮﺍﻡ অর্থাৎ, আল্লামা আইনী বলেন দীর্ঘ আলোচনার পরে হাত চুম্বন, কদমবুচি, মাথা বুচি, ও ইত্যাদির বৈধতা প্রমানিত হলো। যেভাবে বর্ণিত হাদীস হতে কপালে, দুই চোখের মাঝে, দু’ঠোটের উপরে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণিত হল, তবে এ সকল ক্ষেত্রে চুম্বন তখন জায়েয যখন সম্মান ও বরকত হাসিল উদ্দেশ্য হয়। — রদ্দুল মোখতার, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা- ৩৮০। মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- ﻻ ﻳﻜﺮﻩ ﺍﻟﺘﻘﺒﻴﻞ ﻟﺰﻫﺪ ﻭﻋﻠﻢ ﻭﻛﺒﺮﺳﻦ - ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻮﻯ ﺭﺣﻤﺔﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻟﻴﺪ ﻟﻠﻐﻴﺮ ﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﻟﻌﻠﻤﻪ ﻭﺻﻴﺎﻧﺘﻪ ﻭﺯﻫﺪﻩ ﻭﺩﻳﺎﻧﺘﻪ ﻭﻧﺤﻮ ﺫﺍﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻻﻣﺮ ﺍﻟﺪﻳﻨﻴﻪ ﻟﻢ ﻳﻜﺮﻩ ﺑﻞ ﻳﺴﺘﺤﺐ অর্থাৎ, তিনি বলেন, চুমু দেয়া মাকরুহ হবেনা যখন তা কোন পরহেজগারিতা, ইলম বা জ্ঞান ও বয়োযষ্ঠের কারনে হবে। ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাত চুম্বন, যদি ব্যক্তির জ্ঞানগত মার্যাদা, খোদা ভীরুতা ও ধামির্কতা ইত্যাদি কারনে হয় তাহলে মাকরুহ তো হবে না; বরং মুস্তাহাব বা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত হবে। — মিরকাত, খন্ড ৯ম, পৃঃ ৭৬। বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফতহুল বারী’ এর মধ্যে আল্লামা ইবনে হাজর আল আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ﻭﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻳﺪﻝ ﻋﻠﻰ ﺟﻮﺍﺯ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻟﻴﺪ ﻭﺍﻟﺮﺟﻞ - ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻻﺑﻬﺮﻯ ﺍﻧﻤﺎ ﻛﺮﻫﻬﺎ ﻣﺎﻟﻚ ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻭﺍﻟﺘﻜﺒﺮ ﻭﺍﻣﺎ ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻪ ﺍﻟﺘﻘﺮﺏ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﺪﻳﻨﻪ ﺍﻭﻟﻌﻠﻤﻪ ﺍﻭ ﻟﺸﺮﺍﻓﺘﻪ ﻓﺎﻥ ﺫﺍﻟﻚ ﺟﺎﺋﺰ - অর্থাৎ, (তিনি বলেন) হাদীস শরীফ দ্বারা হাতবুচি ও কদমবুচির বৈধতা ও অনুমোদন প্রমাণিত। তবে ইমাম মালেক ও ইমাম আবহারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা এগুলিকে মাকরুহ বলেছেন যদি বড়ত্ব আহমিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু যদি আল্লাহ তা’য়ালার নৈকট্যবান বান্দা বা জ্ঞানগত সম্মান ও মর্যাদার কারনে হয় তাহলে উহা নি:সন্দেহে জায়েয। — ফতহুল বারী শরহে বুখারী, খন্ড- ১১তম, পৃ: ৫৭ বুখারী শরীফে মুকাদ্দামায় আল্লামা আহমদ আলী সাহারানপুরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন- ﻗﺎﻝ ﺟﺎﺀ ﻣﺴﻠﻢ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺠﺎﺝ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ﻓﻘﺒﻞ ﺑﻴﻦ ﻋﻴﻨﻴﻪ ﻭﻗﺎﻝ ﺩﻋﻨﻰ ﺍﻗﺒﻞ ﺭﺟﻠﻴﻚ ﻳﺎ ﺍﺳﺘﺎﺫ ﺍﻻﺳﺘﺎﺫﻳﻦ ﻭﻳﺎ ﺳﻴﺪﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ ﻭﻳﺎ ﻃﺒﻴﺐ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻓﻰ ﻋﻠﻠﻪ - অর্থাৎ,- একদা হযরত ইমাম মুসলিম রাহমাতুল্লাহি হযরত ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির সাক্ষাৎ পানে ধন্য হওয়ার জন্য আগমন করে ইমাম বুখারীর উভয় চোখের মাঝখানে চুম্বন করলেন, অত:পর তিনি ইমাম বুখারীকে সম্বোধন করে বললেন, হে শিক্ষককূল শিরমণি! মূহাদ্দিসগণের সম্রাট ও হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার কারনসমূহ অনুসন্ধানে ডাক্তারের ভূমিকা পালনকারী সম্মানিত ও পবিত্র সত্ত্বা, আমাকে একটু মেহেরবানী করে আপনার পদযুগল চুম্বন করে ধন্য হওয়ার সুযোগ দিন। — মুকাদ্দামাতু সহিহীল বুখারী, পৃষ্ঠা- ৩ আশিয়াতুল লমুয়াত এ বর্ণিত হয়েছে, পরহেজগার আলেমদের হাত চুম্বন জায়েয এবং কেহ কেহ বলেন ইনসাফ ও দ্বীনের সম্মানার্থে বুচা বা চুমু দেয় তাতে কোন দোষ নেই তবে দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষে হলে তা অবশ্যই মাকরুহ, হাদীস শরীফে সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার কদমবুচি বা কদম মোবারক চুম্বন করার একাধিক বর্ননা এসেছে। সুতরাং গ্রহণযোগ্য মত এটাই যে, সফর থেকে ফিরে এসে সাক্ষাতের সময় মুয়ানাকা ও চুম্বন করা জায়েয, মাকরুহ নয়। — আশিয়াতুল লময়াত, খন্ডঃ ৪র্থ, পৃ: ৩৩, মোজাহিরুল হক্ব, খন্ড: ৪র্থ, পৃষ্ঠা: ৬০ পাক ভারত উপমহাদেশের সর্বজন স্বীকৃত অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল হক মহাদ্দিসে দেহলভীর অভিমতঃ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺤﻖ ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ ﺍﻟﺪﻫﻠﻮﻯ : ﻭﻓﻰ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺩﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺟﻮﺍﺯ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻻﺭﺟﻞ - অর্থাৎ, হযরত শায়খ এ দেহলভী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জারে কর্তৃক বর্ণিত কদমবুচি অনুমোদিত হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, (মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি চিত্তে) বুর্জগানে দ্বীন ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের পদযুগল চুমু দেয়ার বৈধতা অত্র হাদীস দ্বারা দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত। কদমবুচির বৈধতায় দেওবন্দীদের অভিমত ১) মৌলভী রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী ﻭﻓﯽ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﯼٰ ﺭﺷﯿﺪﯾﮧ : ﺳﻮﺍﻝ : ﮐﺴﯽ ﺷﺨﺺ ﮐﮯ ﻟﺌﮯ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﮐﻮ ﮐﮭﮍﺍ ﮨﻮ ﺟﺎﻧﺎ ﺍﻭﺭ ﭘﺎﻭﮞ ﭘﮑﮍﻧﺎ ﺍﻭﺭ ﭼﻮﻣﻨﺎ ﺗﻌﻈﯿﻤﺎ ﺩﺭﺳﺖ ﮨﮯ ﯾﺎ ﻧﮩﯿﮟ؟ ﺟﻮﺍﺏ : ﺑﺮﺍﺋﮯ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﺩﯾﻨﺪﺍﺭﻭﮞ ﮐﮯ ﻟﺌﮯ ﮐﮭﮍﺍ ﮨﻮﻧﺎ ﺩﺭﺳﺖ ﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﭘﺎﻭﮞ ﭼﻮﻣﻨﺎ ﺍﺱ ﺟﯿﺴﯽ ﺷﺨﺺ ﮐﺎ ﺑﮭﯽ ﺩﺭﺳﺖ ﺛﺎﺑﺖ ﮨﮯ۔ অর্থ, দেওবন্দি মৌলভী রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী তার রচিত “ফতুয়ায়ে রশিদিয়ার” মধ্যে প্রশ্নোত্তরে বলেন- প্রশ্ন: কোন ব্যক্তির সম্মানে দাড়ানো বা তাকে কদমবুচি করা বৈধ কিনা ? উত্তর: দ্বীনদার ব্যক্তির সম্মানে দাড়ানো ও তাদের পায়ে চুমু খাওয়া বৈধ এবং তা হাদীসে রসূল দ্বারা প্রমাণিত। — ফতুয়ায়ে রশিদিয়া ২) দেওবন্দী মুফতি শফির অভিমত ﺣﻀﺮﺕ ﺷﯿﺦ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﺎﺑﺪ ﺳﻨﺪﮬﯽ ﻧﮯ ﺍﭘﻨﯽ ﺭﺳﺎﻟﮧ ﻣﯿﮟ ﺗﺤﺮﯾﺮ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ﮐﮧ ﺗﻌﻈﯿﻢ ﻭ ﺗﮑﺮﯾﻢ ﮐﯿﻠﺌﮯ ﺩﺳﺖ ﺑﻮﺳﯽ ﯾﺎ ﻗﺪﻡ ﺑﻮﺳﯽ ﺻﺮﻑ ﺍﻥ ﻟﻮﮔﻮﮞ ﮐﯽ ﺟﺎﺋﺰ ﮨﮯ ﺟﻮ ﻋﺎﻟﻢ ﺻﺎﻟﺢ ﯾﺎ ﺳﻠﻄﺎﻥ ﻋﺎﺩﻝ ﮨﻮﯾﺎ ﮐﻮﺋﯽ ﺩﯾﻨﯽ ﺷﺮﻑ ﻭ ﺑﺰﺭﮔﯽ ﺭﮐﮭﺘﺎ ﮨﻮ۔‏[ ﺫﮐﺮ ﺍﻟﺸﻔﻌﯽ ﻓﯽ ﺟﻮﺍﮬﺮ ﺍﻟﻔﻘﮧ ﺻﻔﺤﮧ ، ১৮৫ ﺟﻠﺪ، ৮] অর্থ- তিনি বলেন, হযরত শায়খ মুহাম্মদ আবেদ সিনদী বলেছেন, তাকওয়াবান আলেম, ন্যায়পরায়ন বাদশা, ধর্মীয় দৃষ্টিতে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী শুধুমাত্র এমন লোকদের হাত ও পা চুম্বন করা জায়েয। — জাওহারুল ফিকহ: খন্ড ১, পৃ: ১৮৫ ৩) এমদাদুল ফতোয়া কিতাবের ভাষ্য মতে ﭘﺲ ﺻﺤﯿﺢ ﺟﻮﺍﺯ ﺗﻘﺒﯿﻞ ﻗﺪﻡ ﻓﯽ ﻧﻔﺴﮧ ﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﻓﻘﮩﺎﺀ ﮐﯽ ﻣﻨﻊ ﻋﺎﺭﺽ ﻣﻔﺴﺪ۔ অর্থ- কদমবুচি মূলত একটি জায়েয আমল। তবে দিক বিবেচনা করে তা নিষেধ করেছেন।। — জাওহারুল ফিকহ, খন্ড ৫, পৃ: ৪৫ ৪) এমদাদুল আহকাম গ্রন্থে আছে- ﻋﺎﻟﻢ،ﻭﺍﻟﺪﯾﻦ ﮐﮧ ﺗﻘﺒﯿﻞ ﯾﺪ ﻭﺭﺟﻞ ﺟﺎﺋﺰ ﮨﮯ ﻣﮕﺮ ﺍﻧﺤﻨﺎﺀ ﻣﺜﻞ ﺭﮐﻮﻉ ﺣﺮﺍﻡ ﮨﮯ۔ অর্থ, আলেম, পিতা-মাতা ইত্যাদির হাত ও পায়ে চুম্বন করা জায়েয, কিন্তু রুকুর উদ্দেশ্য মাতা ঝুকানো হারাম। — এমদাদুল আহকাম: খন্ড, ১ম পৃ: ৩৫ পৃষ্ঠা। ৫) ফতোয়ায়ে মাহ

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।