সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

বিশেষ বিশেষ দিন পালন করতে সরকার ও মুসলমানউনাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে,

তাহলেইদেশ ও সমাজ রহমত দ্বারা পরিপূর্ণ হবেমহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি বান্দা ওউম্মত উনাদেরকে অবারিত রহমত, বরকত, নিয়ামত,সাকীনাহ ও করুনা দান করার জন্য বিশেষ বিশেষরাত, দিন, সময় ও মুহুর্ত হাদিয়া করেছেন। আর সেইবিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহুত গুলোকেস্মরন বা পালন করতে বলেছেন। সে কারণেইসকল বান্দা ও উম্মত উনাদের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছেঅতীব গুরুত্বের সাথে উক্ত বিশেষ বিশেষ রাত,দিন, সময় ও মুহুত গুলোকে যথাযোগ্য সম্মান-ইজ্জতের সাথে স্মরন বা পালন করা। কেননা, মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি স্বয়ং উনার পবিত্র কালামুল্লাহশরীফ উনার মধ্যে এ সম্পর্কে ইরশাদ মুবারককরেন –ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻓﻰ ﺫﻟﻚ ﻻﻳﺖ ﻟﻜﻞ ﺻﺒﺎﺭ ﺷﻜﻮﺭ .অর্থ: আর মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষরাত, দিন ও সময়গুলোর কথা তাদেরকে স্মরণকরিয়ে দেন। এতে উপদেশ রয়েছে পরমধৈর্য্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য। (পবিত্রসূরাতু ইবরাহীম শরীফ: ৫)মূলত এ আয়াত শরীফ দ্বারা অতীতের কল্যাণময়ও অকল্যানময় ঘটনাসমূহকে স্মরণ করতে বলাহয়েছে এজন্য যে, যাতে এগুলো থেকেইবরত-নছীহত গ্রহণ করা হয়। এ ব্যাপারে বিশুদ্ধনির্ভরযোগ্য সর্বজনমান্য সকল তাফসীরগ্রন্থেই কমবেশি আলোচনা করা হয়েছে।নিম্নে তাফসীর উনার কিতাব থেকে এ সম্পর্কিতকয়েকটি ইবারত উল্লেখ করা হলো-উক্ত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তানবীরুলমাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালাআনহু’ নামক কিতাবে বর্ণিত আছে-(ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ) ﺑﺎﻳﺎﻡ ﻋﺬﺍﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻳﻘﺎﻝ ﺑﺎﻳﺎﻡﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ( ﺍﻥ ﻓﻰ ﺫﻟﻚ ) ﻓﻴﻤﺎ ﺫﻛﺮﺕ ( ﻻﻳﺎﺕ ) ﻟﻌﻼﻣﺎﺕ(ﻟﻜﻞ ﺻﺒﺎﺭ ) ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻄﺎﻋﺔ (ﺷﻜﻮﺭ ) ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﻌﻤﺔ .অর্থ: “(আর মহান আল্লাহ পাক উনার রাত, দিন ওসময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন)নাফরমান জাতীর প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষথেকে আযাব নাযিলের রাত, দিন ও সময়সমূহ এবংনেক বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতনাযিলের রাত, দিন ও সময়সমূহকে স্মরণ করুন(নিশ্চয়ই এতে রয়েছে) যা উল্লেখ রয়েছে(উপদেশ) নিদর্শন, (প্রত্যেক পরম ধৈর্য্যশীল)আনুগত্যের ব্যাপারে ধৈর্যধারণকারী (ও পরমকৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য) নিয়ামতেরশুকরিয়াকারীদের জন্য।”আল ইমামুল কাবীর আল মুহাদ্দিছুশ শাহীরআতবাক্বাতিল উম্মাহ আলা তাকাদ্দুমিহী ফিত তাফসীরহযরত আবূ জা’ফর মুহম্মদ বিন জারীর আত ত্বাবারীরহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত মুবারক ৩১০ হিজরী) উনারলেখা “জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন(তাফসীরুত ত্ববারী)” ১৩ খ- ১২৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখআছে-ﺣﺪﺛﻨﻰ ﺍﻟـﻤﺜﻨﻰ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺍﺑﻮ ﺣﺬﻳﻔﺔﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺛﻨﺎ ﺷﺒﻞ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻋﻦ ﺍﺑﻦﺍﺑﻰ ﻧﺠﻴﺢ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻋﻦ ﻣـﺠﺎﻫﺪ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪﻋﻠﻴﻪ ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺑﺎﻟﻨﻌﻢ ﺍﻟﺘﻰ ﺍﻧﻌﻢ ﺑﻬﺎﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻧﺠﺎﻫﻢ ﻣﻦ ﺍﻝ ﻓﺮﻋﻮﻥ ﻭﻓﻠﻖ ﻟـﻬﻢ ﺍﻟﺒﺤﺮ ﻭﻇﻠﻞﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﻐﻤﺎﻡ ﻭﺍﻧﺰﻝ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟـﻤﻦ ﻭﺍﻟﺴﻠﻮﻯ .অর্থ: (হযরত ইমাম আবূ জা’ফর ত্ববারী রহমতুল্লাহিআলাইহি তিনি বলেন) “আমার নিকট হাদীছ শরীফবর্ণনা করেছেন হযরত মুছান্না রহমতুল্লাহি আলাইহি।তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর দিয়েছেনহযরত আবূ হুযাইফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন,আমাদের কাছে হযরত শিবিল রহমতুল্লাহি আলাইহিহযরত ইবনু আবী নুজাইহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারথেকে, তিনি হযরত মুজাহিদ তাবিয়ী রহমতুল্লাহিআলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘মহানআল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত, দিন ওসময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন’আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, উক্ত বিশেষবিশেষ রাত, দিন ও সময়সমূহে তাদের উপর যেনিয়ামত প্রদান করা হয়েছিলো সেগুলি হচ্ছে, মহানআল্লাহ পাক তিনি (বণী ইসরাঈলকে) ফিরাউনগোষ্ঠীর অত্যাচার থেকে হিফাযতকরেছিলেন, উনাদের জন্য সাগরে রাস্তা করেদিয়েছিলেন, মেঘমালা দ্বারা উনাদেরকে ছায়া দানকরেছিলেন এবং উনাদের জন্য আকাশ থেকে‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ খাদ্য নাযিল করেছিলেন। ”ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺫﻛﺮﻫﻢﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺑﻨﻌﻢ ﺍﻟﻠﻪ .অর্থ: “হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রহমতুল্লাহিআলাইহি ‘মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত,দিন ও সময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়েদিন’ আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেন, তা হচ্ছে মহানআল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার প্রদত্ত নিয়ামতনাযিলের দিন।ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪﻳﻘﻮﻝ ﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﻨﻌﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻬﻢঅর্থ: “হযরত ক্বতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘মহানআল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত, দিন ওসময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন’আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেন, মহান আল্লাহ পাক রব্বুলআলামীন উনার পক্ষ থেকে উনাদের উপরনাযিলকৃত নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।”ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﺑﻰﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺫﻛﺮﻫﻢﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻧﻌﻢ ﺍﻟﻠﻪ .অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু তিনি হযরত উবাই রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুউনার থেকে, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকেবর্ণনা করেছেন। তিনি ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ উনারতাফসীরে ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক উনারনিয়ামতের কথা স্মরণ করে দিন।”হযরতুল আল্লামা ক্বাযী মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানীহানাফী মাতুরীদী মাযহারী নকশবন্দীরহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত: ১১৪৩ হিজরী, ওফাত:১২২৫ হিজরী) উনার লেখা ‘তাফসীরুল মাযহারী’৫ম খ- ১১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-)ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ) ﻗﺎﻝ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻭ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻰ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪﻭﻣﺠﺎﻫﺪ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻗﺘﺎﺩﺓ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻨﻌﻢﺍﻟﻠﻪ، ﻭﻗﺎﻝ ﻣﻘﺎﺗﻞ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻮﻗﺎﺋﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻰﺍﻻﻣﻢ ﺍﻟﺴﺎﺑﻘﺔ ﻗﻮﻡ ﻧﻮﺡ ﻭﻋﺎﺩ ﻭﺛـﻤﻮﺩ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ،ﻳﻘﺎﻝ ﻓﻼﻥ ﻋﺎﻟـﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺍﻯ ﺑﻮﻗﺎﺋﻌﻬﻢ، ﻭﺍﻟﺘﻘﺪﻳﺮﻓﺬﻛﺮﻫﻢ ﺑـﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻓﻰ ﺍﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟـﻤﺎﺿﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﻌﻤﺔ ﺍﻭﺍﻟﺒﻼﺀ ( ﺍﻥ ﻓﻰ ﺫﻟﻚ ) ﺍﻟﻮﻗﺎﺋﻊ ( ﻻﻳﺎﺕ ) ﻋﻠﻰ ﻭﺟﻮﺩﺍﻟﺼﺎﻧﻊ ﻭﻋﻠﻤﻪ ﻭﻗﺪﺭﺗﻪ ﺣﻜﻤﺘﻪ ﻭﻭﺣﺪﺗﻪ (ﻟﻜﻞ ﺻﺒﺎﺭ )ﻳﺼﺒﺮ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺒﻼﺀ ﻭﺍﻟﻄﺎﻋﺔ ﻋﻦ ﺍﻟـﻤﻌﺼﻴﺔ .(ﺷﻜﻮﺭ ) ﻳﺸﻜﺮ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻋﻠﻰ ﻧﻌﻤﺎﺋﻪ ﻭﺍﻟـﻤﺮﺍﺩ ﺑﻪ ﻟﻜﻞﻣﺆﻣﻦ .অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত,দিন ও সময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়েদিন) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু, হযরত উবাই ইবনে কা’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালাআনহু, হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরতক্বতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ‘ ﺍﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ’ এর অর্থকরেছেন ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতসমূহ’হিসেবে। হযরত মুক্বাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিবলেছেন, এটা দ্বারা উদ্দেশ্য ঐসকল ইতিবৃত্ত যাঘটেছিলো পূর্ববর্তী জাতি ক্বওমে নূহআলাইহিস সালাম, ক্বওমে আদ ও ক্বওমে ছামূদ-উনাদের যুগে। প্রচলিত একটি প্রবাদ- জনৈক ব্যক্তিআইয়্যামুল আরবের আলিম, অর্থাৎ লোকটিআরববাসীদের ইতিহাস জানেন। এভাবে মর্মার্থদাঁড়ায়- হে আমার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!আপনি আপনার স্বজাতিকে ওই সকল ঘটনা স্মরণকরিয়ে দিন, যেগুলো সংঘটিত হয়েছিলো তাদেরপূর্বসূরীদের যামানায়, কখনো নিয়ামতরূপে আবারকখনো বালা-মুছীবতরূপে। (নিশ্চয়ই এতেরয়েছে) অতীতের ঘটনাসমূহে রয়েছে(উপদেশসমূহ) ওই সকল ঘটনাবলীর মধ্যেরয়েছে আল্লাহ পাক উনার এককত্ব ও শক্তিমত্তারআশ্চর্য নিদর্শন ও হিকমত। (প্রত্যেক পরমধৈর্যশীল) যারা বালা-মুছীবতের সময় ছবর করেন(ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য) যাঁরা নিয়ামতসমূহপাওয়ার কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উনার দ্বারাউদ্দেশ্য প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানগণ।বিশ্ব বিখ্যাত সর্বজনমান্য ‘তাফসীরুল জালালাঈন’কিতাবের ২০৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻨﻌﻤﻪ ﺍﻥ ﻓﻰ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﺘﺬﻛﻴﺮ ﻻﻳﺖ ﻟﻜﻞﺻﺒﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻄﺎﻋﺔ ﺷﻜﻮﺭ ﻟﻠﻨﻌﻢ .অর্থ : (মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত,দিন ও সময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়েদিন) অর্থ নিয়ামতে পূর্ণ দিবস সমূহের কথা (নিশ্চয়ইএতে রয়েছে) উপদেশ (নছীহত, প্রত্যেকপরম ধৈর্যশীলের জন্য) যাঁরা আনুগত্যতায়ধৈর্য্যধারণ করেন (এবং প্রত্যেক পরমকৃতজ্ঞতাকারীর জন্য) যাঁরা নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়করেন।(ﻭَﺫَﻛِّﺮْﻫُﻢْ ﺑِﺎَﻳَّﺎﻡِ ﺍﻟﻠﻪ ) ﻳﻌﻨﻲ ﺧﻮّﻓﻬﻢ ﺑﻤﺜﻞ ﻋﺬﺍﺏ ﺍﻷﻣﻢﺍﻟﺨﺎﻟﻴﺔ ﻟﻴﺆﻣﻨﻮﺍ . ﻭﻗﺎﻝ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ : ﺃﻳﺎﻡﻧﻌﻤﻪ . ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻗﺎﻝ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻟﺴﺪﻱﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻳﻌﻨﻲ ﺫﻛﺮﻫﻢ ﻧﻌﻤﺎﺋﻲ ﻟﻴﺆﻣﻨﻮﺍ ﺑﻲ .অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত,দিন ও সময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়েদিন) পূর্ববর্তী জাতীদের প্রতি যে আযাব নাযিলহয়েছিল তা স্মরণ করে দিয়ে তাদেরকে ভয়প্রদর্শন করুন, যাতে তারা পবিত্র ঈমান গ্রহণ করে।হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: তাহচ্ছে নিয়ামত প্রাপ্তির দিন সমূহ। অনুরুপ হযরতক্বতাদাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সুদ্দীরহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা ব্যাখ্যা করে বলেন যে,তাদেরকে আমার নিয়ামত সমূহের কথা স্মরণ করেদিন যাতে তারা পবিত্র ঈমান গ্রহণ করে। (বাহরুলউলূম অর্থাৎ তাফসীরুস্ সামারকান্দী লেখক: ইমামমুফাসসির ফক্বীহ আবুল্ লাইছ নাছর বিন মুহাম্মাদ বিনআহমাদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফীরহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরীপবিত্র সূরাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-৫)(ﻭَﺫَﻛِّﺮْﻫُﻢْ ﺑِﺎَﻳَّﺎﻡِ ﺍﻟﻠﻪ ) ﻭﺍﻧﺬﺭﻫﻢ ﺑﻮﻗﺎﺋﻌﻪ ﺍﻟﺘﻲ ﻭﻗﻌﺖﻋﻠﻰ ﺍﻻﻣﻢ ﻗﺒﻠﻬﻢ ﻗﻮﻡ ﻧﻮﺡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻋﺎﺩ ﻭﺛﻤﻮﺩ،ﻭﻣﻨﻪ ﺍﻳﺎﻡ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﻟﺤﺮﻭﺑﻬﺎ ﻭﻣﻼﺣﻤﻬﺎ ﺍﻭ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻻﻧﻌﺎﻡﺣﻴﺚ ﻇﻠﻞ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﻐﻤﺎﻡ ﻭﺍﻧﺰﻝ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﻤﻦ ﻭﺍﻟﺴﻠﻮﻯﻭﻓﻠﻖ ﻟﻬﻢ ﺍﻟﺒﺤﺮ .অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত,দিন ও সময়সমূহের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়েদিন) আপনি তাদেরকে ঐ সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করেভীতি প্রদর্শন করুন, যা আপনার পূর্ববর্তী উম্মাতক্বওমে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম, ক্বওমে আ’দও ক্বওমে ছামূদ ইত্যাদীর ধ্বংস হওয়ার ঘটনা।তন্মধ্যে আরবের যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারামারি-কাটাকাটি দিনগুলো। অথবা তাদের উপর মেঘমালা দ্বারা ছায়াপ্রদান, আকাশ থেকে মান্না-সালওয়া নাযিল এবং সাগরফেড়ে রাস্তা হওয়া ইত্যাদী নিয়ামত সমূহ স্মরণকরিয়ে উপদেশ দিতে বলা হয়েছে।(মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল অর্থাৎতাফসীরুন নাসাফী লেখক: ইমাম ফক্বীহমুফাসসির আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিনমাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমাতুল্লাহিআলাইহি ওয়াফাত: ৭১০ হিজরী পবিত্র সূরাহ ইবরাহীমআলাইহিস সালাম-৫)(

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।