দ্বীনী শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, কুশিক্ষা নয়!

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন: “তোমরা দোয়া করো- আয় মহানআল্লাহ পাক! আপনি আমাদের ইলম বৃদ্ধি করে দিন।”পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ইলম দুই প্রকার। এক প্রকার ইলম হচ্ছে- যবানীইলম, যা বান্দার জন্য দলীলস্বরূপ এবং দ্বিতীয় প্রকার ইলম হলো- ইলমুল ক্বলব, যা উপকারী ইলম।”হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ইলমে ফিকাহ অর্জন করলো কিন্তু ইলমে তাছাউফ অর্জন করলো না, সে ফাসিক। আর যে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করলো কিন্তু ইলমে ফিকাহ মানে না, সে যিন্দিক বা কাফির।”পাকিস্তানের জাতীয় কবি, ড. আল্লামা ইকবাল তিনি উনার এক বন্ধু সম্পর্কে বলেন, “আমার এক বন্ধু আছে। খুব ভালো তার মেধা, ভালো রেজাল্ট করলো উচ্চ শিক্ষার আশায়, বিলেত বা লন্ডন থেকে পড়ালেখা করলো। উচ্চ পদস্থ চাকরি পেল, বাড়ি করলো, অনেক টাকা পয়সা অর্জন করলো একটা সময় সে মারা গেল। এখন কার জন্য সে কি করলো?”এর বাস্তব চিত্র আমরা দেখি কবি ড. আল্লামা ইকবাল সাহেব কতই না সুন্দর কথা বলেছেন। তুমি কার জন্যশিক্ষা অর্জন করলে? দুনিয়ার জন্য, দুনিয়ার ফায়দা হাছিল করার জন্য? দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শুধুকি দুনিয়াবী শিক্ষায় ও মোহে ব্যস্ত থাকো?মূলত সবাই শিক্ষা অর্জন করে দুনিয়ায় একটু ভালোভাবে জীবনযাপন করার জন্য। তাহলে প্রশ্ন আসে- ইন্তিকালের পর যে জীবন, সেই সময়ের শিক্ষা কি বাবা-মা শিশুদের দিচ্ছে? দেয় না। দুনিয়াবী শিক্ষায়শিক্ষিত হয়ে আপনার শিশু দুনিয়ার অল্প সময়ের জিন্দেগীর সুখ-শান্তি পেতে পারে; নাও পেতে পারে। কিন্তু পরকালের বাস্তব জীবনে তার সীমাহীন কষ্ট থেকেই যাবে। দুনিয়াবী এই শিক্ষার নাম হলো হুনর, যা শুধু দুনিয়াবী ফায়দা দেয়।পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক পুরুষ এবং মহিলার জন্য দ্বীনী ইলম বা শিক্ষা অর্জন করা ফরয।”পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার জ্ঞান অবশ্যই সকলের জন্য অর্জন করা ফরয-ওয়াজিব এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের জ্ঞান দ্বারা আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি, মুহব্বত, মা’রিফত হাছিল করার জন্য অবশ্য অবশ্যই ইলমে তাছাউফ অর্জন করতে হবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মাঊন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসল্লিরা জাহান্নামী।”অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নামাযও পড়লো ইবাদত-বন্দেগী করলো তারপরও সে জাহান্নামী। মূলত, ইলমে ফিকাহ অর্জন করে একজন ব্যক্তি বাহ্যিক ইবাদত-বন্দেগী করছে; কিন্তু মূল যে উদ্দেশ্যে ইবাদত-বন্দেগী করার কথা, যা কিনা অন্তর ও নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট, তা হচ্ছে না। অর্থাৎ ইখলাছ সহকারে ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে; তবে উদ্দেশ্য হাছিল হবে। তাই এই ইখলাছ সম্পর্কে জ্ঞান হাছিল করাও ফরয।প্রত্যেক ধরনের শিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষক রয়েছে। আর ইখলাছ হাছিল করার শিক্ষাই হলো ইলমে তাছাউফ। এই শিক্ষা প্রদান করেন হক্কানী-রব্বানীওলীআল্লাহগণ উনারা।কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে যে শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাস প্রণয়ন করেছে, তা নানা কুফরী ও নাস্তিক্যবাদী মতবাদে পরিপূর্ণ। বর্তমান সিলেবাসে- না আছে ইলমে ফিকহা শিক্ষার ব্যবস্থা, না আছে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করার কথা।কুফরী সিলেবাসের পাঠ্যপুস্তক পড়ে তথা হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, মজুসী কাফিরদের কুফরী আক্বীদা, কাফিরদের জীবনী, কুফরী মতবাদ, নাস্তিক্য মতবাদ পড়ে তথা কুফরী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিশুরা-সন্তানরাভবিষ্যতে কোন্ জাতিতে পরিণত হবে- তা কি কোনো বাবা-মা চিন্তা করেছে? সমস্ত বাবা-মায়ের কি উচিত ছিল না- বর্তমান কুফরী শিক্ষাব্যবস্থারবিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো? বাংলাদেশের সিলেবাসেপ্রত্যেক বিষয়ের পুস্তকগুলো কাফির-নাস্তিকদের লেখায় সয়লাব হয়ে আছে। তাহলে বাবা-মা কি তার শিশুকে-সন্তানকেনাস্তিক বানাতে চায়? বাবা-মা কি তার শিশুকে-সন্তানকেস্বেচ্ছায় জাহান্নামের আগুনে পোড়াতে চায়?মূলত, এটা কোনো বাবা ও মায়ের চাওয়া নয়। বাবা-মা চায়- তার শিশুটি-সন্তানটিমানুষের মতো মানুষ হোক। কিন্তু বর্তমান সিলেবাস পড়ে তো কোনো শিশু বা সন্তান আলোকিত মানুষ হবে না। মানুষের মতো মানুষ হবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহানআদর্শে আদর্শবান হতে পারলেই কেবলমাত্র দুনিয়া এবং আখিরাতে সর্বপ্রকার সফলতা হাছিল করতে পারবে ইনশাআল্লাহ!কাজেই বর্তমান কুফরী সিলেবাসের কুশিক্ষা বর্জন করে শিশুকে সুন্নতী শিক্ষায় শিক্ষিত করুন। তবেই বাবা-মা সন্তানের জন্য যা চেয়ে থাকে মহান আল্লাহ পাক তিন
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।