সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

ডিস এন্টেনার প্রসারঅজোপাড়াগাঁয়েও।হিন্দি সিরিয়ালেরকুপ্রভাবে দেশ জাতিবিপর্যস্ত।‘

রাজার গায়ে তো পোশাক নেই’- এই সত্যউচ্চারণের মতো ‘নাটক-সিনেমাও পোশাকহীনারসংস্কৃতির প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে’- সে তথ্য ঘোষণাদেয়ার মতো রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদেরমাঝে কাউকেও কি খুঁজে পাওয়া যাবে না?‘সিনেমা-নাটক তথা বেপর্দা-বেশরা সংস্কৃতি হারাম ওকবীরা গুনাহর কাজ’-এ কথা বলতে রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশেরসরকার আর কতো দেরি করবে?বর্তমান সময়ে মানুষদের চেতনা তথা ধ্যান-খেয়ালপার্থিবমুখী হওয়ায় তাদের জীবন ধারণে টিভিযেন অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হয়ে উঠেছে।নাঊযুবিল্লাহ! এখনকার মানুষরা বৈষিক বিষয় নিয়ে সদাব্যস্ত। এত ব্যস্ত যে, নিজের শিশু সন্তানদেরওসময় দিতে পারছে না তারা। অথচ অভিভাবকরাশিশুদের যথেষ্ট সময় না দিলে তারা একাকীত্ববোধ করে। আর সেই একাকীত্ব বোধ দূরকরতে ও দূর করাতে টিভিকে বেছে নেয়।আবার বাবা-মা উভয়ে যদি কর্মজীবী হয়, তখনস্বভাবতই শিশু গৃহপরিচারিকার কাছে বড় হয় এবংগৃহপরিচারিকারা শিশুকে ভুলিয়ে রাখার জন্য টিভিদেখতে উৎসাহিত করে। ছোট শিশুরা সহজেইবিজ্ঞাপন ও কার্টুনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রায় সময়দেখা যায়- টিভির রিমোটটি তাদের হাতেই থাকে এবংটিভির উপর তাদের একারই রাজত্ব চলে। কিন্তু তারাযে শুধু কার্টুন চ্যানেলেই সীমাবদ্ধ থাকছে তাকিন্তু নয়, বরং সুযোগ পেলেই তারা কখনোমায়েদের সাথে অথবা একা বিভিন্ন হিন্দি গানেরচ্যানেল, বাংলা (কলকাতা) ও হিন্দি সিরিয়াল দেখে। একথা সর্বজনবিদিত যে, বেশির ভাগ শিশু এখন বই পড়া,হাঁটা-চলা ইত্যাদির সুযোগ কম পায় এবং টিভি দেখায়বেশি সময় ব্যয় করে। অথচ এমনিতেই শিশুদেরস্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও দৈহিক-মানসিক উন্নয়নে টিভিএকটি প্রধান অন্তরায়। সেক্ষেত্রে ভারতেরদুরভিসন্ধিমূলক ও চরম দুঃশ্চরিত্রমূলকসিরিয়ালগুলোদেখে শিশুরা ছোট থেকে হিন্দুঘেঁষা,ধর্মহীন, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী হয়েযাচ্ছে। (নাউযুবিল্লাহ!)ছোটা ভীম (হিন্দি ও ইংলিশ)- সম্পূর্ণ হিন্দুসেটিংয়ে উপস্থাপিত একটি এনিমেশন, যার হিরোহচ্ছে ‘ভীম’ নামের একটি ছোট্ট ছেলে। এরপ্রারম্ভিক সঙ্গীতে বলা হয়, “না হারা হ্যায়, না হারেগা, দুনিয়া মে বাচ্চ কা এক হি হিরো, ছোটা ভীম”।কাহিনীতে দেখানো হয়- যেকোনোরকমের বিপদ-আপদে সে এসে সাহায্য করে এবংসকলকে বিপদমুক্ত করে। অনেক সময় বিপদমুক্তহবার পর লোকজন তাকে নিয়ে শ্লোগানওদেয়- ÔAl mighty VimÕ! (নাউযুবিল্লাহ!)এখানে উল্লেখ করা দরকার, ভীম মহাভারতেরএকটি চরিত্র। পঞ্চপা-ব ভাইদের মধ্যে ভীমদ্বিতীয়। বিশাল দেহ ও প্রবল শক্তির জন্য তাদেরকাছে ভীম বিখ্যাত। এখানে সেক্যুলারিজমেরমন্ত্র খুব কৌশলে বাচ্চাদের মনে ঢুকিয়ে দেয়ারব্যবস্থা আছে। যেমন- ক্রিসমাসের আগের একটাএপিসোড আছে ‘ভীম আর সান্তাক্লজ’।সেখানে সব বাচ্চারাই মনে মনে ঠিক করে রাখেক্রিসমাসের সময় সান্তাক্লজ-এর কাছে কি উপহারচাইবে! কারণ সান্তা মানুষের মনের আশা পূরণকরতে পারে।‘ইসলামিক’ টাচেরও অপকৌশল আছে, ‘ছোটা ভীমএবং অ্যারাবিয়ান নাইট’। ‘ইসলামিক কালচারের’এপিসোডের ভিলেন অ্যারাবিয়ান ড্রেস পরাদাড়িওয়ালা মুসলিম, যে হিন্দু রাজকুমারীকে অপহরণকরে মুক্তিপণ চায় এবং অবশেষে ভীমেরহাতে নাজেহাল হয়ে পালায়।লিটেল কৃষ্ণা এবং বাল কৃষ্ণা (হিন্দি ও ইংলিশ)-হিন্দুধর্মের আরাধ্য দেবতা কৃষ্ণকে নিয়ে তৈরিএই এনিমেশন দুটি শিশুদের মধ্যে ব্যাপকজনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটা জি-সিনেমায়দেখানো হয়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ভগবৎ গীতাতেকৃষ্ণের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। কৃষ্ণকেদেখানো হয়েছে, একটি ছোট ছেলে, যারগায়ের রং ঘন নীল, খালি গায়ে সাধারণত হলুদরঙ্গের ধুতি পরা এবং মাথার মুকুটে একটি ময়ূরপুচ্ছশোভা পায়। এখানে তাকে কখনো সম্বোধনকরা হয়, “লর্ড কৃষ্ণা” আবার কখনো ÒKrisna, Lordof the universeÓ| (নাউযুবিল্লাহ!)গড গণেশা (হিন্দি ও ইংলিশ)- পৌরাণিক হিন্দুধর্মেরজনপ্রিয়তম ও সর্বাধিক পূজিত দেবতাদের একজনহচ্ছে গণেশ। হিন্দুদের সব সম্প্রদায়েরমধ্যেই তার পূজা প্রচলিত। জৈন, বৌদ্ধধর্ম এমনকিভারতের বাইরেও গণেশ আরাধনার ব্যাপক প্রচলনআছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষেরদিন গণেশ পূজা প্রচলিত। এছাড়াও দুর্গাপূজার সময়পরিবারের সঙ্গে গণেশও পূজিত হয়। শিশুদেরজন্য তৈরি এই এনিমেশনটি গণেশকেই নিয়ে।রাম এবং রামায়ণ (হিন্দি ও ইংলিশ)- বাল্মীকি রচিত রামায়ণহিন্দুশাস্ত্রেরকল্পকাহিনীর একটি গ্রন্থ, যারআক্ষরিক অর্থ ‘রামের যাত্রা’। হিন্দু অবতার রামেরজীবন-কাহিনীসহ প্রাচীন ভারতের ধর্মচেতনাএই এনিমেশন দুটিতে দেখানো হয়।জয় হনুমান (হিন্দি ও ইংলিশ)- সিরিজ আকারেদেখানো হয় স্টার গোল্ডে। হনুমান কৃষ্ণেরপূজা করে, আবার রামের স্ত্রী সীতাকেরাবনের কাছ থেকে উদ্ধার করতে সাহায্য করে।এখানে হিন্দুদের দেবতা হনুমানের আজগুবি কা-কারখানা দেখানো হয়। সেই সাথে হিন্দু পুরাণেরবিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছেশিশুদেরকে।মহাভারত (হিন্দি ও ইংলিশ)- ব্যাসদেব রচিত মহাভারতহিন্দুশাস্ত্রেরএকটি অন্যতম কাব্য (অপরটি রামায়ণ)।নানারকম চমক লাগানো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধসহহিন্দু পুরাণ-এর ঘটনা সিরিজ আকারে স্টার জলসাতেদেখানো হয়। যা ইদানীং বাংলাদেশের শিশুদেরখুবই আকৃষ্ট করছে এবং এই বিষয়ে তারা মোটামুটিএক্সপার্ট। সিরিয়াল ছাড়াও মহাভারতের কার্টুন এবংএনিমেটেড মুভি বের হয়েছে।ঠাকুরমার ঝুলি (বাংলা)-DawsenTv -তে এটি প্রচারিত হয়।গোটা ঠাকুরমার ঝুলিতে উল্লেখ করার মতোকোনো মুসলমান চরিত্র নেই। তাইস্বাভাবিকভাবেই মুসলিমদের উদযাপিত কোনোধর্মীয় অনুষ্ঠানের কোনো উল্লেখইএখানে নেই। যা আছে তার ভেতরউল্লেখযোগ্য হলো- দরিদ্র ব্রাহ্মণের সততারগল্প, কিছু পুত্র সন্তানকামী রাজার গল্প, সাধু-সন্ন্যাসীর পাঁচন খেয়ে ছোটরানীরগর্ভবতী হবার গল্প, সৎমা ও সতীনেরকূটনামীর গল্প। হিন্দু সমাজে প্রচলিত যতরকমের কুসংস্কার ও কাল্পনিক বিশ্বাস রয়েছে,ঠাকুরমার ঝুলিতে তার প্রত্যেকটি দিনের পর দিনবেশ পজিটিভভাবে শিশুদের সামনে দেখিয়েযাচ্ছে।অর্ধনগ্ন ও অশ্লীল বিজ্ঞাপনে ভরপুর ভারতেরটিভি চ্যানেলগুলো গোঁড়া হিন্দুপ্রধান দেশেরহওয়ায় এর মূল বিষয়বস্তু হলো হিন্দুদের ধর্মীয়কালচার। সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিক যুগেরঅসুস্থ সেক্যুলার ধ্যান-ধারণা। অপরদিকে কাগজে-কলমে হলেও বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ।হিন্দি সিরিয়াল যাই প্রচার করুক না কেন, তাদের মূলউদ্দেশ্য হলো হিন্দুত্ববাদী চেতনাকে হিন্দুতো বটেই, মুসলমানদের মন ও মস্তিষ্কেগ্রোথিত করা। হিন্দি ও বাংলা সিরিয়ালগুলো শুরু হয়মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোসহ ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দুশ্লোক বা ধর্মসঙ্গীত দিয়ে। আবহসঙ্গীতেথাকে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টা,ঢোলবাদ্য, পূজার সঙ্গীত ইত্যাদি। আনুমানিক ২০-২৫মিনিটের একটি কাহিনীবিহীন সিরিয়ালেঅন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট বিভিন্ন ধরনের পূজা-অর্চনার‘আকর্ষণীয়’ কর্মকা-সহ হরেক রকম মূর্তিরচেহারার সামনে ক্যামেরা ধরে থাকে।শিশুদের উপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় প্রকাশপেয়েছে, শিশুরা টিভিতে যা দেখে তাই সত্যবলে মনে করে। আর সেই দেখা ও শেখা যদিহয় অভিভাবকের অবর্তমানে তাহলে তোসোনায় সোহাগা। হিন্দু ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন চরিত্রনিয়ে তৈরি শিশুতোষ কার্টুন, এনিমেশন এবং সিরিয়াল।সেগুলো থেকে একটি মুসলিম পরিবারের শিশুকী শিখতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।শিশুকাল থেকেই মুসলিম শিশুদের হিন্দুত্ববাদেদীক্ষিত করা হচ্ছে। (নাউযুবিল্লাহ!)

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।