
মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ঈমান, আমল এবং নাজাতের মূলমহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-رضوان من الله اكبرঅর্থ: খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক সবচেয়ে বড়। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২)অর্থাৎ মাখলূক্বাতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক। সন্তুষ্টি মুবারক যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-والذين امنوا اشد حبا للهঅর্থ: ঈমানদারগণ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করেন। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৫)অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করাই হচ্ছে ঈমানদার উনাদের পরিচয়। এখন বান্দা তোসরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে জানতে পারবে না। আর যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কেজানতে পারবে না, সেহেতু সর্বাধিক মুহব্বতও করতে পারবে না। আর এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদমুবারক করেন-والله ورسوله احق ان يرضوه ان كانوا مؤمنين.অর্থ: যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে, তাহলে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যহচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা, কেননা উনারাই সন্তুষ্টি প্রাপ্তির সর্বাধিক হক্বদার। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২)অর্থাৎ মু’মিন হতে হলে শুধু মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতই যথেষ্ট নয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনাকেও মুহব্বত করতে হবে। অন্য কথায়, ঈমানদার হতে হলেনূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক অন্যতম শর্ত। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-النبى اولى بالـمؤمنين من انفسهمঅর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনগণ উনাদের নিকট সর্বাধিক প্রিয়। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)অর্থাৎ ঈমানদারগণ উনাদের পরিচয় হচ্ছে, উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে বেশি মুহব্বত করবেন। আর এ বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট করে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه ان رسولالله صلى الله عليه و سلم قال لا يؤمن احدكمحتى اكون احب اليه من والده وولده والناس اجمعينঅর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে নিজের পিতা-মাতা, সন্তান এবং সমস্ত মানুষ হতে অধিক মুহব্বত না করা পর্যন্ত তোমাদের কেউই কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না। (বুখারী শরীফ)অর্থাৎ মু’মিন হতে হলে মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করতে হবে। আর মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করতে হলে আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করতে হলে উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-قل لا اسئلكم عليه اجرا الا الـمودة فى القربى.অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মাখলূক্বাতকে বলে দিন, তোমাদের কাছে কোন কিছুরই প্রতিদান বা বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না। প্রতিদান বা বিনিময় দেয়া তোমাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। প্রতিদান বা বিনিময় দেয়ার ইচ্ছা করাও তোমাদের জন্য কুফরীস্বরূপ। তবে তোমাদের দায়িত্ব কর্তব্য হলো আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং সদাচরণ করা। (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করার বিষয়টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হক্ব মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট। যা আরো সুস্পষ্ট করে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت على عليه السلام قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم مغضبا حتى استوى على المنبر فحمد الله واثنى عليه قال ما بال الرجال يؤذوننى فى اهلى والذى نفسى بيده لا يؤمن عبد حتى يحبنى ولا يحبنى حتى يحب ذوى.অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত জালালী শান মুবারকে হুজরা শরীফ থেকে মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। অতঃপর তিনি মিম্বর শরীফে আরোহনকরে মহান আল্লাহ পাক উনার হামদ শরীফ ও ছানা শরীফ পাঠ করত ইরশাদ মুবারক করেন, লোকদের কি হলো? আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে তারা আমাকে কষ্ট দেয়। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমাকে মুহব্বত করা ব্যতীত কেউই মু’মিন হতে পারবে না। আর আমার হযরত আহলু বাইত শরীফআলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা ব্যতীত কেউই আমাকে মুহব্বত করতে পারবে না। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لو أن رجلا صف بين الركن والمقام، فصلى وصام،ثم لقى الله عزّوجل وهو مبغض لأهل بيت محمّد صلى الله عليه وسلم دخل النارঅর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র কা’বা শরীফ ও পবিত্র মাক্বামে ইবরাহিম উনাদের মাঝামাঝি অবস্থান করত নামায-রোযা আদায় করতে করতে কেউ যদিমারা যায়। কিন্তু হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সেজাহান্নামী হবে। (বুখারী শরীফ)অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عَنْ حضرت اَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيّ رضى الله تعالىعنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّهِ صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَمَنْ أَبْغَضَنَا اهْلَ الْبَيْتِ فَهُوَ مُنَافِقঅর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে মুনাফিক। (ফাদ্বায়িলুস সাহাবা)অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতই সমস্ত কিছুর মূল। উনাদের মুহব্বতেরমাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত সম্পন্ন হবে। এবং চূড়ান্তভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতও সম্পন্ন হবে। এমনকি উনাদের মুহব্বতব্যতীত কারো কোন আমলও কবুল হয় না। উপরন্তু উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবে না, তারা মুনাফিক হিসেবে পরিগণিত হবে।এখন মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে কিভাবে? হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বান্দা মুহব্বত করলে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে উনাদেরকে অনুসরণের মাধ্যমে। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদমুবারক করেন-قل ان كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم اللهঅর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলেন দিন! যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহ্ববত করে থাকো, তাহলে তোমরা আমাকে অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি মুহব্বত উনার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত বা অনুসরণ করার মাধ্যমে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن ام الـمؤمنين حضرت عائشة عليها السلام من احب شيئا اكثر ذكره.অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষ যাকে মুহব্বত করে উনার স্মরণও বেশি করে থাকে। (মাক্বাছিদুল হাসানাহ)অর্থাৎ মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্মরণের মাধ্যমে। আর এ কথা সুস্পষ্ট যে, মানুষ যাকে বেশি স্মরণকরে উনাকে অনুসরণও বেশি করে থাকে। আর এজন্যই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-عن حضرت جابر بن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال رأيت رسول الله صلى الله عليه و سلم فى حجته يوم عرفة وهو على ناقته القصواء يخطب فسمعته يقول يا أيها الناس انى قد تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى.অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জে আরাফার দিন ক্বাসওয়া নামক উটে আরোহিত অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদানকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে মানুষেরা! আমি তোমাদের নিকট রেখে যাচ্ছি দুটি নিয়ামত। যতদিন তা আঁকড়ে থাকবে বা ধরবে, ততদিন তোমরা কখনো গুমরাহ হবে না। কিতাবুল্লাহ উনাকে এবং আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে। (তিরমিযী শরীফ)অর্থাৎ কিতাবুল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফ এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণই হিদায়েতের পথ। উনাদের ইতায়াত হতে বিচ্যুত হলে কেউই হিদায়েতের উপর দৃঢ়চিত্ত থাকতে পারবে না। সূক্ষ্মভাবে ফিকির করলে দেখা যায় কেবল হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইতায়াতের মাধ্যম
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।