
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যক্তিগত যিন্দিগীবলতে কোন যিন্দিগী ছিলনা।আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে তিনি ইরশাদ করেন-وما محمد الا رسولঅর্থ: “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আল্লাহ পাক উনার রসূল ব্যতীত কিছু নন।” (সূরা আলে ইমরান: আয়াত শরীফ ১৪৪)তিনি আরো ইরশাদ করেন-وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحى يوحىঅর্থ: “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেননি।” (সূরা নজম: আয়াত শরীফ ৩, ৪)স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-الا وانا حبيب اللهঅর্থ: “সাবধান হয়ে যাও, আমি হলাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব।” (তিরমিযী, দারিমী, মিশকাত)অর্থাৎ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আল্লাহ পাক উনার নবী, রসূল ও হাবীব হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছেন। আর তিনি সম্পূর্ণরূপে ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।কাজেই যিনি নবী, রসূল ও হাবীব হিসেবে সৃষ্টি হয়েছেন এবং উনার সম্পূর্ণ যিন্দিগী ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে উনার সম্পর্কে একথা কি করে বলা যেতে পারে যে, উনার ব্যক্তিগত যিন্দিগী রয়েছে? নাঊযুবিল্লাহ!প্রকৃতপক্ষে উনার সম্পূর্ণ যিন্দিগী মুবারকই নুবুওওয়াতী, রিসালতী ও হাবীবী যিন্দিগী মুবারক। সুবহানাল্লাহ!কোন নবী কিংবা রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যক্তিগত যিন্দিগী রয়েছে এ প্রকারের প্রশ্ন করা ও আক্বীদা পোষণ করা উভয়টাই কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।কারণ, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্বপ্নও ওহীর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তার মানে উনারা ঘুমের মধ্যেও নবী-রসূল হিসেবেই থাকেন ব্যক্তি হিসেবে নয়। আর সজাগ অবস্থায় অর্থাৎ চলা-ফেরা, উঠা-বসা,খাওয়া-দাওয়া, আলাপ-আলোচনা, ওয়ায-নছীহত ইত্যাদি সর্বাবস্থায় তো অবশ্যই উনারা নবী ও রসূল হিসেবে অবস্থান করেন। তাই সর্বাবস্থায়ই উনাদের প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে। এমনকি আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামউনাদের বিছানা মুবারক-এ থাকা অবস্থায়ও উনার প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে।তাহলে এটা কি করে বলা যেতে পারে যে, নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যক্তিগত যিন্দিগী রয়েছে?আরো উল্লেখ্য, যদি বলা হয় কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনার ব্যক্তিগত যিন্দিগী রয়েছে, তাহলেএটা প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি কখন নবী হিসেবে থাকেন আর কখন সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে থাকেন? অর্থাৎতিনি কত সময় ব্যাপী নবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আর কত সময়ব্যাপী ব্যক্তি হিসেবে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালন করেন? তা কস্মিনকালেও প্রমাণ করা সম্ভব নয়।কারণ, আমরা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস দ্বারা প্রমাণ পাই যে, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের প্রতি চব্বিশ ঘন্টাই ওহী নাযিল হয়েছে। এমনকি স্বপ্নেও উনাদের প্রতি ওহী নাযিল হতোও হয়েছে। যার কারণে নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের স্বপ্নও ওহীর অন্তর্ভুক্ত। এর বহু প্রমাণরয়েছে।উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-قال يبنى انى ارى فى المنام انى اذبحكঅর্থ: “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হে আমার ছেলে (হযরত ঈসমাঈল আলাইহিস সালাম!) নিশ্চয়ই আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে যবেহ (কুরাবানী) করছি।” (সূরা ছফফাত: আয়াত শরীফ ১০২)অতঃপর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার ছেলে হযরত ঈসমাইল আলাইহিস সালাম উনাকে মিনা বাজারে শোয়ায়ে কুরবানী করার উদ্দেশ্যে গলা মুবারক-এ ছুরি চালাচ্ছিলেন। তখন আল্লাহ পাক পুনরায় নাযিল করলেন-قد صدقت الرؤيا.অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি আপনার স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন।” (সূরা ছফফাত: আয়াত শরীফ ১০৫)অতএব, প্রমাণিত হলো যে, কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের ব্যক্তিগত যিন্দিগী বলতে কোন যিন্দিগীই ছিলনা। উনাদের সম্পূর্ণ যিন্দিগী মুবারকই ছিলো নুবুওওয়াতী ও রিসালতী যিন্দিগী মুবারক। সুতরাং ব্যক্তিগত যিন্দিগী ছিলো বলে মত পোষণ করা ও বিশ্বাস করা উভয়টাই কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।