একমাত্র মনোনীত দ্বীন হচ্ছেন ইসলাম

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তিনিই মহান আল্লাহ পাক যিনি উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন সকল দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়ে। এক্ষেত্রে সাক্ষী হিসেবে মহান আল্লাহ পাকতিনিই যথেষ্ট।” (পবিত্র সূরা ফাতহ : পবিত্র আয়াতশরীফ ২৯)
পবিত্র এ আয়াত শরীফ নাযিল করে মহান আল্লাহ পাক তিনি অতীতে ওহী দ্বারা নাযিলকৃত দ্বীন এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে উদ্ভাবিত বা প্রবর্তিতমানবরচিত সকল ধর্ম, মতবাদ, তন্ত্র, নিয়ম-নীতি,আইন-কানুন বাতিল ঘোষণা করেন। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সর্বশেষ নবী এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার পর ক্বিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী কিংবা রসূল আগমন করবেন না।
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম তথা পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিধান নিয়ে এসেছেন তা মেনে সকলকে সে মুতাবিক চলতে হবে। যারা মেনে সে মুতাবিক চলবে তারা ঈমানদার। আর যারা অস্বীকারকরবে তারা কাফির।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ﻣﻦ ﻳﺒﺘﻎ ﻏﻴﺮ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺩﻳﻨﺎ ﻓﻠﻦ ﻳﻘﺒﻞ ﻣﻨﻪ ﻭﻫﻮ ﻓﻰﺍﻻﺧﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﺎﺳﺮﻳﻦ
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র ইসলাম ব্যতীত অন্যদ্বীন-ধর্ম, মতবাদ বা তন্ত্রমন্ত্রের নিয়ম-নীতিচায় বা গ্রহণ করে, তার থেকে সেটা কবুল করাহবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৫)।
তিনি আরো বলেন-
ﻛﻴﻒ ﻳﻬﺪﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﻮﻣﺎ ﻛﻔﺮﻭﺍ ﺑﻌﺪ ﺍﻳـﻤﺎﻧﻬﻢ ﻭﺷﻬﺪﻭﺍ ﺍﻥﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺣﻖ ﻭﺟﺎﺀ ﻫﻢ ﺍﻟﺒﻴﻨﺖ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﻬﺪﻯ ﺍﻟﻘﻮﻡﺍﻟﻈﺎﻟـﻤﻴﻦ
অর্থ : “ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কীকরে ওই সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সত্য(নবী-রসূল) হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল (পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ) আসার পর কুফরীবা অস্বীকার করে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না।” (পবিত্র সূরাআলে ইমরান : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৬)
এ পবিত্র আয়াতে কারীমা উনার মধ্যে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, ঈমান আনার পর অর্থাৎ ঈমানদার বা মুসলমান দাবি করার পরও যারা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম বা আদেশ-নিষেধ মুবারক মানবে না, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক মানবে না, উনার আনুগত্য বা অনুসরণ মুবারক করবে না এবং পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হুকুম-আহকাম বা বিধান তথা আদেশ-নিষেধ সমূহ মেনে চলবে না, তারা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত। এরা হিদায়েত থেকে বঞ্চিত পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়। এদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করেন না। এরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ!
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।