বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে নখপালিশের ন্যায় একটি আবরণ বা প্রলেপ পড়ে, নামাযও শুদ্ধ হবেনা।

বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে নখপালিশের ন্যায় একটি আবরণ বা প্রলেপ পড়ে, যার ফলে মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছেনা এবং এ কারণে তার ওযু ও ফরয গোসল হবে না। আর ওযু ও ফরয গোসল না হলে তার নামাযও শুদ্ধ হবেনা।
কারণ নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হলো, শরীর পাক হওয়া। আর শরীর পাক করতে হলে ফরয গোসলে সমস্ত শরীর ধৌত করতে হবে এমনকি মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছাতে হবে যেন একটি চুলও শুকনা না থাকে।
কেননা চুল শুকনা থাকলে গোসল শুদ্ধ হবেনা এবং শরীরও পাক হবেনা। যেহেতু ফরয গোসলে মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছানো ফরয।
যেমন, “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খ-ের ৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
والخضاب اذا تجسد ويبس يـمنع تـمام الوضو والغسل
অর্থ: “খেযাব (কলপ) যখন শরীরে (চুলে, দাড়ি ইত্যাদিতে) জমে বা লেগে যাবে এবং শুকিয়ে যাবে তখন ওযু ও গোসল শুদ্ধ হবেনা।”
উল্লেখ্য, চুলে বাজারে প্রচলিত যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করার কারণে মূল চুলে পানি পৌঁছেনা বরং প্রলেপের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। যার কারণে শরীর পাক হয় না।
দ্বিতীয়ত: শরীর পাক থাকলে নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযু করা ফরয। আর ওযুতে মাথার চুল মাসেহ করা ফরয এবং দাড়িতে পানি প্রবাহিত করাও ফরয। কিন্তু চুলে যে কোন রঙের কলপ ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে প্রলেপ পড়ে যাওয়ার কারণে মূল চুলের উপর মাসেহ ও পানি প্রবাহিত হয়না বরং প্রলেপের উপর দিয়ে মাসেহ ও পানি প্রবাহিত হয়। ফলে তার ওযুও হয়না। আর ওযু ও ফরয গোসল না হলে নামাযও শুদ্ধ হয়না অর্থাৎ হবেনা।
শুধু তাই নয়, এমনকি বাজারে প্রচলিত কালো খেযাব ব্যবহারকারী ব্যক্তি মারা গেলে তার জানাযা নামাযও শুদ্ধ হবেনা। কারণ তাকে গোসল দেয়ার সময় তার দাড়িতে ও চুলে পানি না পৌঁছানোর কারণে সে পবিত্র হবেনা।
সুতরাং তাকে পবিত্র করতে হলে তার দাড়ি ও চুল মুন্ডন করে গোসল করাতে হবে। এরপর তার জানাযা দিতে হবে। অন্যথায় সে কস্মিনকালেও পবিত্র হবেনা এবং তার জানাযা নামায পড়ানোও জায়িয হবেনা। (চলবে)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।