
ছবি তুলে হজ্জ করা জায়িয
নেই ছবি তুলে হজ্জ করলে
ছওয়াবের চেয়ে গুনাহই বেশি
হবে :
কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও
ক্বিয়াসে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা,
দেখা হারাম হওয়ার ব্যাপারে
হাজার হাজার দলীল রয়েছে। আর এই
হাজার হাজার দলীলকে উপেক্ষা
করে ছবি তুলে হজ্জ করা কিভাবে বৈধ
হতে পারে? কস্মিনকালেও তা বৈধ
হতে পারে না। বরং ছবি তুলে হজ্জ
করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।
ছবি তুলে হজ্জ করলে সাওয়াবের
পরিবর্তে গুণাহ-ই বেশি হবে। হজ্জ করা
সারা জীবনে মাত্র একবার শর্ত
সাপেক্ষে ফরয। যখন শর্তগুলো
পরিপূর্ণভাবে কারো মাঝে থাকবে,
তখন তার উপর হজ্জ ফরয হবে। শর্ত থেকে
একটিও বাদ গেলে হজ্জ ফরয থাকবে না।
কেননা উসূলের কিতাবে উল্লেখ
রয়েছে, ‘ইজা ফাতাশ্ শরতু ফাতাল
মাশরুত’ অর্থাৎ যখন শর্ত ভঙ্গ হয়ে যায় তখন
মাশরুত বা জাযাও ভঙ্গ হয়ে যায়।
হজ্জ ফরয হওয়ার শর্তগুলো নিম্নে দেয়া
হলো-
১। মুসলমান হওয়া। কেননা মহান আল্লাহ
পাক তিনি সূরা তওবার ২৮ নম্বর আয়াত
শরীফ-এ বলেন,- নিশ্চয়ই মুশরিক তথা
কাফির, ইহুদী নাছারারা নাপাক
অপবিত্র। তারা যেন পবিত্র বাইতুল্লাহ
শরীফ-এর নিকটবর্তী না হয়।
২। স্বাধীন হওয়া। গোলামের উপর হজ্জ
ফরয নয়।
৩। নাবালেগ নাবালেগা বা অপূর্ণ
বয়স্কের উপর হজ্জ ফরয নয়। কেননা হাদীছ
শরীফ-এ এসেছে- তিন ব্যক্তির উপর
থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে- (ক)
অপ্রাপ্ত বয়স্ক (খ) পাগল ও (গ) ঘুমন্ত
ব্যক্তি।
৪। সুস্থ হতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তির উপর হজ্জ
ফরয নয়। কেননা সূরা তওবার ৯১ নম্বর
আয়াত শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে, দুর্বল ও
অসুস্থ ব্যক্তির ব্যাপারে শরীয়তে
কোনো বাধ্য বাধকতা নেই।
৫। চক্ষু দৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। অন্ধ ব্যক্তির
উপর হজ্জ ফরয নয়। কেননা সূরা নূরের ৬১
নম্বর আয়াত শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে,
অন্ধের জন্য কোনো দোষ নেই।
৬। রাস্তা নিরাপদ থাকা। রাস্তা
নিরাপদ না হলে, হজ্জ করা ফরয নয়।
৭। যানবাহনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে।
যানবাহনের সুব্যবস্থা না থাকলে হজ্জ
ফরয হবে না।;
৮। বিবেক বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে।
বুদ্ধিহীন, বোকা, নির্বোধ লোকের
উপর হজ্জ ফরয নয়।
৯। মহিলাদের জন্য স্বামী অথবা মুহরিম
ব্যক্তি থাকতে হবে। স্বামী ছাড়া
অথবা মাহরাম ছাড়া হজ্জ ফরয হবে না,
যদিও কোনো মহিলা কোটি কোটি
টাকার মালিক হোক না কেন। কারণ
স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন,
কোনো মহিলা তার স্বামী অথবা
মাহরাম ছাড়া হজ্জ করবে না।
১০। পাথেয় থাকতে হবে। মহান আল্লাহ
পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-
এ ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার
জন্যেই মানুষের প্রতি হজ্জ করা ফরয যার
পাথেয় সামর্থ্য ও নিরাপত্তা রয়েছে।
অর্থাৎ যার পথের সামর্থ ও নিরাপত্তা
নেই তার প্রতি হজ্জ ফরয নয়।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা ইহাই
প্রমাণিত হলো যে, যদি কেউ শুধু
টাকার মালিক হয় তবেই তার প্রতি হজ্জ
ফরয হবে না। সাথে সাথে তাকে
মুসলমান, স্বাধীন, বালেগ, সুস্থ, চক্ষু
দৃষ্টিসম্পন্ন, রাস্তা নিরাপদ,
যানবাহনের ব্যবস্থা, বিবেক-
বুদ্ধিসম্পন্ন মহিলাদের জন্য স্বামী বা
মুহরিম থাকা ইত্যাদি শর্তসমূহ অবশ্যই
থাকতে হবে। উপরোক্ত শর্তসমূহ হতে যদি
একটি শর্তও বাদ পড়ে যায় তাহলে আর
হজ্জ ফরয থাকবে না।
ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, যদি রাস্তা
নিরাপদ না থাকে অর্থাৎ জীবনের
নিরাপত্তা না থাকে তাহলে হজ্জ
ফরয হয় না। অর্থাৎ হজ্জ আর ফরয থাকে
না। যদি জীবনের নিরাপত্তার জন্য
হজ্জ বাতিল হয়ে যায়, তাহলে ঈমানের
নিরাপত্তা যেখানে নেই সেখানে
হজ্জ কি করে ফরয হতে পারে? কেননা
হজ্জ করতে গেলে শুরুতেই ১৮ কপি ছবি
জমা দিতে হয়। তারপর এয়ারপোর্ট
থেকে শুরু করে মক্কা শরীফ, মদীনা
শরীফ, সাফা, মারওয়া, মিনা,
মুজদালিফা, আরাফার ময়দানে ইহুদী-
নাছারাদের চক্রান্তে নিরাপত্তার
অজুহাতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক
অসংখ্য অগণিত সিসিটিভি। যাতে
প্রতি সেকেন্ডে ৪০০টি তুলে থাকে।
নাউযুবিল্লাহ! আর তথাকথিত প্রতিজন
হাজী ছাহেবের একই সাথে কমপক্ষে
১০টি সিসি ক্যামেরা ছবি তুলে
থাকে। হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে
প্রতি সেকেন্ডে প্রতিজন হাজী
ছাহেবের ৪ হাজার ছবি উঠছে।
নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে প্রতি
মিনিটে, প্রতি ঘণ্টায়, প্রতিদিনে কত
ছবি উঠছে? একবারও কি ফিকির করা
হয়েছে? হজ্জ করতে গিয়ে ২০ থেকে ৩০
দিনে কোটি কোটি ছবি তোলা হয়।
আর কোটি কোটি ছবিতে কোটি
কোটি কবীরা গুনাহ হয়। তাহলে দেখা
যাচ্ছে ১টি ফরয আদায় করতে গিয়ে
ছওয়াবের পরিবর্তে কোটি কোটি
কবীরা গুনাহ নিয়ে একজন হাজী
ছাহেব দেশে ফিরছে। নাউযুবিল্লাহ!
যে ব্যক্তি ছবিকে জায়িয মনে করে এই
গুনাহগুলো করবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে।
কোনো ব্যক্তিকে যদি বলা হয় আপনি
মাগরিবের পর আপনার ঘর থেকে বের
হলে আপনাকে হত্যা করা হবে। যাকে
এই সতর্কবাণী দেয়া হবে সে
কস্মিনকালেও মাগরিবের পর নিজ ঘর
থেকে বের হবে না। এখন কেউ যদি
ছবিকে হালাল মনে করে হজ্জ করে
তাহলে তার ঈমান চলে যাবে। এই
সতর্কবাণী শুনার পর যে হজ্জ করে সে
কি মুসলমান না অন্য কিছু? কারণ জানের
নিরাপত্তার জন্য মাগরিবের পর ঘর
থেকে ঠিকই বের হবে না। কিন্তু
ঈমানের নিরাপত্তার খোঁজ খবর না
নিয়েই হজ্জ করা বোকামী ছাড়া আর
কিছুই নয়। আর এই বোকামীর জন্য যেতে
হবে জাহান্নামে। কেননা মহান
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি বলেন, প্রত্যেক ছবি
উঠানেওয়ালা, অঙ্কনকারী,
সংরক্ষণকারী জাহান্নামী।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।