হালাল-হারাম নিয়ে নানাকথা

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারকহয়েছে, “হালালও স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট।”যেগুলো সম্মানিত শরীয়ত উনার মাঝে হারাম- তাপবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফউনাদের মাঝে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎসেগুলো ছাড়া বাকী সব হালাল।তবে সাধারণত খাদ্যদ্রব্যে এবং প্রসাধনী দ্রব্যেযে উপাদানগুলো ব্যবহার হলে তা খাওয়ারঅনুপযুক্ত বা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয় আমরাসেগুলো নিয়েই আলোচনা করবো।ইনশাআল্লাহ!সাধারণত প্রধান দুই কারণে খাদ্যদ্রব্য এবং প্রসাধনীপ্রব্যসমূহ হারাম হয়ে থাকে।১) এলকোহলের উপস্থিতি২) হারাম বস্তু থেকে সংগৃহীত উপাদানসমূহেরউপস্থিতি।এলকোহল বা শরাব :মানুষ যে এলকোহল বা শরাব খেয়ে নেশা করেতাকে বলে ইথাইল এলকোহল বা ইথানল।ইন্ডাস্ট্রিতে যখন ইথাইল এলকোহল ব্যবহার করাহয় তখন সেটা খেয়ে যাতে শ্রমিক শ্রেণীনেশা করতে না পারে তাই এক ধরনের বিষাক্তদ্রব্য ইথাইল এলকোহলে মিশিয়ে দেয়া হয়।সেই বিষাক্ত উপাদান যুক্ত এলকোহলকে বলা হয়denatured alcohol বা SD alcohol. এই বিষাক্তউপাদান মেশানোর কারণে কেবল ইথাইলেএলকোহল খাওয়ার অনুপযুক্ত হয় কিন্তু তাতেইথাইল এলকোহল বা ইথানলের গুণাগুণেরকোনো পরিবর্তন হয় না। তাই এই denaturedalcohol বা SD alcohol যুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা জায়িযনেই। ফলে কোনো প্রোডাক্টে denaturedalcohol বা SD alcohol লেখা থাকলে তাবর্জনীয়।শরীয়ত সম্মত কারণ :সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী এলকোহল বা শরাব পানকরা হারাম এবং নাপাকের অন্তর্ভুক্ত। আর তা হারামহবার পেছনে মূল কারণ এটি পান করলে নেশা হয়।ফলে বিষাক্ত উপাদান মিশ্রিত করলেও ইথাইলএলকোহলের নেশা জাতীয় গুণাগুণ নষ্ট হয় না;ফলে তা নাপাকের অন্তর্ভুক্তই থাকে। সেকারণে এই denatured alcohol বা SD alcoholযুক্ত দ্রব্য ব্যবহার করা জায়িয নেই।কোনো প্রোডাক্ট কিনে উপাদানগুলো যখনদেখবেন তখন কোথাও এলকোহল লেখাদেখলেই ভয় পাবার কিছু নেই। কোথাও ইথাইলএলকোহল বা ইথানল, মিথাইল এলকোহল বা মিথানল,denatured alcohol বা SD alcohol লেখা থাকলেসে প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু যে এলকোহলগুলোতে শরাবেরকোনো বৈশিষ্ট্য নেই, কিন্তু নামের শেষেএলকোহল আছে, সেগুলো ব্যবহারে সমস্যানেই। যেমন- Beûyl Alcohol, Stearyl Alcohol,Cetearyl Alcohol, ¸ristyl Alcohol, Beheûl Alcohol,Cetyl Alcohol, Sugar Alcohol, Lauryl Alcohol,Oleyl Alcohol ইত্যাদি। এগুলো প্রোডাক্টকেচকচকে করতে, প্রলেপ দিতে, ক্রীমবানাতে, ঘন করতে, পিচ্ছিল করতে, মিষ্টি বাড়াতেব্যবহৃত হয়।হারাম বস্তু থেকে সংগৃহীত উপাদান সমূহেরউপস্থিতির কারণে খাদ্য দ্রব্য ও প্রসাধনীদ্রব্যসমূহ কখনো হারাম হয়ে থাকে আবারকখনো হালাল হয়ে থাকে। হারাম থেকেসংগৃহীত উপাদান দ্বারা প্রস্তুতকৃত কোন খাদ্যদ্রব্য বা প্রসাধনী দ্রব্য হারাম হবে এটাই স্বাভাবিককিন্তু কখন হালাল হয় সেটা বুঝলেই সব বোঝাহয়ে যাবে এবং আমাদের জীবন ধারন সহজ হয়েযাবে।সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে বর্ণিত আছে যখনকোন লবণের খনিতে কোন বিড়াল বা কুকুর বাঅন্য কোন প্রাণী পড়ে মরে থাকে আর যখনসেটা এক সময় লবণে পরিণত হয় তখন সে লবনহালাল, যদিও উৎসটি হারাম। কারণ হচ্ছে সেই লবণেরমধ্যে হারাম প্রাণীর কোন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়াযায়না। এখান থেকে যে সুত্র তৈরি হয়েছে তাহচ্ছে “কোন হারাম উৎস থেকে কোন উপাদানপ্রস্তুত হলে যদি তার গুনগত পরিবর্তন এমন হয়যে সেখানে মূল উৎস বা বস্তুর কোন গুণাগুণথাকে না তবে সেই হারাম বস্তু থেকে সংগৃহীতউপাদানটি হালাল”।একটি চিত্র আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। ধরুনকেউ খুব আইসক্রিম খেয়ে ঠাণ্ডা বাধিয়ে জ্বরেপড়লো। জ্বর থাকায় সকালের নাস্তা খেলেনপাউরুটির মধ্যে জেলী লাগিয়ে তারপর খেলেনজ্বরের ট্যাবলেট। দুপুরে ডাক্তার বললেন সুপখাওয়াতে, আজকাল ইনস্টেন্ট সুপ পাওয়া যায় তাইকিনে খাওয়ানো হল। কেও বললো দই খাওয়ালেপেট ঠাণ্ডা থাকবে ফলে এখন সব শপিং মলেYoghurt বা দই পাওয়া যায় রোগীকে সেই দইএনেও খাওয়ানো হল।এই রোগী যতগুলো আইটেম খেলেনযেমন আইসক্রিম, জেলী, ট্যাবলেট, সুপ, দই এইপ্রতিটি আইটেমে থাকতে পারে বা অধিকাংশ সময়রয়েছে জিলাটিন। তাহলে আপনিই বলুন সেরোগী কি তাহলে সব হারাম খেয়েছে। কারণজিলাটিন তৈরি হয় প্রাণীর হাড়ের কোলাজেনথেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শূকর এবং গরুর হাড়থেকে। আপনি যদি ভাবেন গরু হলে সমস্যা নেই,তা কিন্তু না। হালাল উপায়ে যবেহকৃত গরু থেকেনেয়া জিলাটিন আলাদা করে পাওয়া কঠিন। আরব্যবসায়ীরা মুনাফার জন্য সস্তা সোর্স ব্যবহারকরতে পছন্দ করে ফলে শূকরের হাড় থেকেতৈরি জিলাটিনে বাজার সয়লাব। অনলাইনে লেখা পড়েআপনি কিন্তু এ বিষয়ে কোন সমাধান পাবেন না। এরসমাধান হচ্ছে জিলাটিন হালাল। কারণ হাড়েরকোলাজেন থেকে যে পদ্ধতিতে জিলাটিনপ্রস্তুত করা হয় পরবর্তীতে জিলাটিনের মধ্যেIntramolecular Change আসে সেখানেকোলাজেনের কোন বৈশিষ্ট্য উপস্থিতি থাকেনা।ফলে জিলাটিন শূকর থেকে প্রস্তুত হলেও তাহালাল।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।