সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

রে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যমানুষের মতো মনে করা সুস্পষ্ট কুফরী যাকাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ

হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামউনারাই যদি অন্য কোনো মহিলার মতো নাহন,তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্যপুরুষের মতো হন কিভাবে?মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যমানুষের মতো মনে করা সুস্পষ্ট কুফরী যাকাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বহু পবিত্র আয়াতশরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত যে, হযরতনবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কাফির-মুশরিকরাই কেবল তাদের মতো মানুষ বলেমনে করতো। যেমন হযরত নূহ আলাইহিসসালাম উনার ক্বওম এবং আদ ও ছামূদ গোত্রেরলোকেরা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামউনাদের শান মুবারক সম্পর্কে বেআদবীকরতে গিয়ে বলেছিলো, “আপনারা তোআমাদের মতোই বাশার তথা মানুষ।” (পবিত্র সূরাইব্রাহীম শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১০)নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে কাফির-মুশরিকরা বলেছিলো, ‘ইনি তো তোমাদেরমতো বাশার তথা মানুষ ব্যতীত কেউনন।’ (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াতশরীফ ৩), একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারসম্পর্কে কাফির-মুশরিকরা আরো বলতোযে, ইনি কেমন রসূল, যিনি খাদ্য খান এবং বাজারেযান?” (পবিত্র সূরা ফুরকান শরীফ : পবিত্র আয়াতশরীফ ৭), উল্লিখিত পবিত্র আয়াতে কারীমা উনার দ্বারাপ্রমাণিত হলো যে, হযরত নবী-রসূলআলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিজের মতোমানুষ বলা কাফির-মুশরিকদেরঅন্যতম একটিস্বভাব।, মূলত কাদিয়ানীরা যেমন ‘খাতামুন্ নাবিয়্যীন’শব্দ মুবারক উনার মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করেখতমে নুবুওওয়াতকে অস্বীকার করেথাকে। তদ্রুপ বাতিল আক্বীদা ও ফিরক্বারলোকের পবিত্র কালাম শরীফ উনার পবিত্রসূরা হামীম সাজদা উনার পবিত্র আয়াত শরীফ- ﻗﻞﺍﻧـﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﻳﻮﺣﻰ ﺍﻟﻰ উনার মনগড়া অর্থও ব্যাখ্যা করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেতাদের মতো মানুষ বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!, প্রকৃতপক্ষে উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফউনার সঠিক অর্থ ও মর্ম হলো, “হে আমারহাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ওইমুশরিকদের বলে দিন যে, আমি তোমাদেরমেছাল (মত) একজন মানুষ, (হাক্বীক্বত আমিএকজন রসূল; যার কারণে) আমার নিকট ওহীমুবারক এসে থাকে।”, প্রকৃতপক্ষে উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফউনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যমানুষের মতো বলা হয়নি। কারণ উক্ত পবিত্রআয়াত শরীফ উনার মধ্যেই ﻳﻮﺣﻰ ﺍﻟﻰ অর্থাৎ‘আমার নিকট ওহী মুবারক এসে থাকে’ এবাক্যটি উনাকে সকল মানুষ থেকে আলাদা করেদিয়েছে। যেহেতু অন্যান্য মানুষের নিকটওহী মুবারক আসে না। এর বহু উদাহরণেরমধ্যে একটি উদাহরণ হচ্ছে ﺣﻴﻮﺍﻥ (হায়ওয়ান)শব্দটি। যেমন ‘হায়ওয়ান’ বা প্রাণী বলতেমানুষকেও বুঝায় এবং অন্যান্য জীব-জন্তুকেওবুঝায়। তবে কি কেউ একথা বলবে যে, গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা ইত্যাদিও মানুষের মতো‘হায়ওয়ান’। নাউযুবিল্লাহ!মূলত মানুষ হায়ওয়ান বটে কিন্তু গরু-ছাগল, ঘোড়া-গাধা প্রভৃতি হায়ওয়ানের মতো নয়। কেননা মানুষহলো ‘হায়ওয়ানে নাতিক্ব’ অর্থাৎবাকশক্তিসম্পন্নজীব। অর্থাৎ মানুষ বিবেক,জ্ঞান ও বাক শক্তির অধিকারী। যেরূপ এনাতিক্ব বা ‘বাকশক্তি সম্পন্ন’ শব্দটি মানুষকেঅন্যান্য জীব-জন্তু হতে পৃথক করেদিয়েছে তদ্রুপ ﻳﻮﺣﻰ ﺍﻟﻰ অর্থাৎ ‘আমার নিকটওহী মুবারক এসে থাকে’ পবিত্র বাক্যখানানূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাধারণ মানুষ থেকেপৃথক করে দিয়েছে।পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ উনার ১৭ নম্বর আয়াতশরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনিহযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মানব আকৃতিধারণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। এইপবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেও হযরতজিবরীল আলাইহিস সালাম উনার ক্ষেত্রে‘বাশার’ বা মানুষ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এখনবাশার ছিফতের অধিকারী হওয়ার কারণে নূরেমুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম উনাকে যারা তাদের মতো মানুষবলছে, তারা তাহলে হযরত জিবরীল আলাইহিসসালাম উনাকে তাদের মতো মানুষ বলছে নাকেন?, মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যমানুষের মতো মনে করা সুস্পষ্ট কুফরী যাকাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।