কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকটবাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউকেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাববলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটিসঠিক?

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়াহলো, কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার কাছেবাইয়াত হওয়া ফরয। এটাই হচ্ছে দলীলসম্মত এবংহাক্বীক্বী ফতওয়া। কেননা ইখলাছ অর্জন করাহচ্ছে ফরয। আর ইখলাছ হাছিল হয়ে থাকে কামিলশায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ছোহবত মুবারক উনারনূর এবং উনার দেয়া সবক্ব ক্বলবী যিকির করারদ্বারা। আর এসকল প্রতিটি বিষয়ই ফরয উনারঅন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলাউনার নিকট বাইয়াত হওয়া ফরয। উনার ছোহবত মুবারকইখতিয়ার করা ফরয। উনার থেকে ফায়িয-তাওয়াজ্জুহহাছিল করা ফরয। ক্বলবী যিকির-আযকার করা ফরয।উক্ত ফরযসমূহ প্রত্যেকটি কামিল শায়েখ বা মুর্শিদক্বিবলা উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত।স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টিহাছিলের উদ্দেশ্যে ইবাদত বা আমল করার নামইখলাছ। অর্থাৎ প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলাকে ইখলাছঅর্জন করতে হবে। অন্যথায় আমল করে ফায়দা বামর্যাদা হাছিল করা তো দূরের কথা নাজাত লাভ করাটাইকঠিন হবে।কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদমুবারক হয়েছে-ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻛﻠﻬﻢ ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟـﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻭﺍﻟـﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻛﻠﻬﻢﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟﻌﺎﻟـﻤﻮﻥ ﻭﺍﻟﻌﺎﻟـﻤﻮﻥ ﻛﻠﻬﻢ ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟﻌﺎﻣﻠﻮﻥﻭﺍﻟﻌﺎﻣﻠﻮﻥ ﻛﻠﻬﻢ ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟـﻤﺨﻠﺼﻮﻥঅর্থ : সমস্ত মানুষ ধ্বংস মু’মিনগণ ব্যতীত এবংমু’মিনগণও ধ্বংস আলিমগণ ব্যতীত এবং আলিমগণওধ্বংস আমলকারীগণ ব্যতীত এবং আমলকারীগণওধ্বংস ইখলাছ অর্জনকারীগণ ব্যতীত। (মিরকাতশরীফ)যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদমুবারক হয়েছে-ﻭﻣﺎ ﺍﻣﺮﻭﺍ ﺍﻻ ﻟﻴﻌﺒﺪﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺨﻠﺼﻴﻦ ﻟﻪ ﺍﻟﺪﻳﻦঅর্থ: ঈমানদারদেরকে আদেশ করা হয়েছে তারাযেনো খালিছভাবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাকউনার জন্যে ইবাদত বন্দিগী করে। (সূরা বাইয়্যিনাহশরীফ: আয়াত শরীফ ৫)পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারকহয়েছে-ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻰ ﺍﻣﺎﻣﺔ ﺍﻟﺒﺎﻫﻠﻰ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻻﻳﻘﺒﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺍﻻ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺧﺎﻟﺼﺎ ﻭﺍﺑﺘﻐﻰ ﺑﻪ ﻭﺟﻬﻪঅর্থ: “হযরত আবূ উমামা আল বাহিলী রদ্বিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাকওই আমল কবুল করবেন না, যা ইখলাছের সাথেমহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনেরজন্য করা না হয়।” (নাসায়ী শরীফ, দায়লামীশরীফ)উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ব্যতীতঅন্য কোন উদ্দেশ্যে কোন আমল করা হলেতা হবে গইরুল্লাহ। তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটকখনোই কবুলযোগ্য হবে না। তা যত বড় আমলইহোক না কেন। যার উদাহরণ মহান আল্লাহ পাক তিনিপবিত্র কুরআন শরীফ সূরা মাঊন উনার মধ্যেউল্লেখ করেছেন।ইরশাদ মুবারক হয়েছে-ﻓﻮﻳﻞ ﻟﻠﻤﺼﻠﻴﻦঅর্থাৎ, নামায আদায়কারীদের জন্য আফসুস তথাজাহান্নাম। (পবিত্র সূরা মাঊন শরীফ: পবিত্র আয়াতশরীফ ৪)অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাকছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছশরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, যা মুসলিমশরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহপাক উনার সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্য না থাকারকারণে জিহাদকারী জিহাদ করা সত্বেও, ক্বারীকুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়া সত্বেও এবং আলিমইলম উনার প্রচার প্রসার করা সত্বেও এবং দানশীলদানের সমস্ত রাস্তায় দান করা সত্বেও তাদেরসকলকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করাহবে। নাউযুবিল্লাহ!কাজেই, আমল করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহপাক উনার সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্যে। অর্থাৎইখলাছের সাথে আমল করতে হবে। তবেই সেআমলের দ্বারা-পরিপূর্ণফায়দা বা মর্যাদা লাভ করা সম্ভবহবে।এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেবর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারককরেন-ﺍﺧﻠﺺ ﺩﻳﻨﻚ ﻳﻜﻔﻴﻚ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺍﻟﻘﻠﻴﻞঅর্থ: ইখলাছের সাথে আমল করো। অল্পআমলই তোমার নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।(আল মুসতাদরাক লিল হাকিম)অতএব, প্রত্যেকের জন্য ইখলাছ অর্জন করাফরয। আর ইলমুল ইখলাছ উনার অপর নামই হচ্ছেইলমুল ক্বলব বা ইলমুত তাছাওউফ।যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদমুবারক হয়েছে-ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻋﻠﻤﺎﻥﻓﻌﻠﻢ ﻓﻰ ﺍﻟﻘﻠﺐ ﻓﺬﺍﻙ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺍﻟﻨﺎﻓﻊ ﻭﻋﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﺴﺎﻥﻓﺬﺍﻟﻚ ﺣﺠﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻋﻠﻰ ﺍﺑﻦ ﺍﺩﻡঅর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিবর্ণনা করেন, ইলম দু’প্রকার। একটি হচ্ছেক্বলবী ইলম (ইলমে তাছাওউফ) যা উপকারীইলম। অপরটি হচ্ছে যবানী ইলম (ইলমে ফিক্বাহ)যা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বান্দার প্রতিদলীল স্বরূপ।” (দারিমী, মিশকাত, মিরকাত,মাছাবীহুস সুন্নাহ)ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহিআলাইহি তিনি বলেন, “ইলম শিক্ষা করা ফরয বলতেবুঝায় ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ। অর্থাৎউভয়টিই শিক্ষা করা ফরয।”উল্লেখ্য, হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফারহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রথমে আওলাদে রসূলহযরত ইমাম বাকির আলাইহিস সালাম উনার কাছে মুরীদহন এবং উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করারপর উনারই ছেলে আওলাদে রসূল হযরত ইমামজা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার কাছে বাইয়াতহয়ে কামালিয়াত অর্জন করেন। সুবহানাল্লাহ! যাবিশ্বখ্যাত গায়াতুল আওতার ফী শরহে দুররিল মুখতার,সাইফুল মুকাল্লিদীন, ইছনা আশারিয়া ইত্যাদি কিতাবেউল্লেখ রয়েছে।হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহিতিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব মিশকাত শরীফ উনার শরাহমিরকাত শরীফ-এ হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহিআলাইহি যিনি মালিকী মাযহাবের ইমাম উনার ক্বওলউল্লেখ করেছেন যে-ﻣﻦ ﺗﻔﻘﻪ ﻭﻟـﻢ ﻳﺘﺼﻮﻑ ﻓﻘﺪ ﺗﻔﺴﻖ ﻭﻣﻦ ﺗﺼﻮﻑ ﻭﻟـﻢﻳﺘﻔﻘﻪ ﻓﻘﺪ ﺗﺰﻧﺪﻕ ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻊ ﺑﻴﻨﻬﻤﺎ ﻓﻘﺪ ﺗﺤﻘﻖঅর্থ: “যে ব্যক্তি ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলোঅথচ ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করলো না, সেব্যক্তি ফাসিক। আর যে ব্যক্তি ইলমে তাছাওউফশিক্ষা করলো কিন্তু ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করলোনা অর্থাৎ গুরুত্ব দিলনা, সে যিন্দিক (কাফির)। আর যেব্যক্তি উভয়টিই অর্জন করলো, সে ব্যক্তিইমুহাক্কিক।”জানা আবশ্যক যে, ইলমে ফিক্বাহ অর্থাৎ ওযূ,গোসল, ইস্তিঞ্জা, নামায-কালাম, মুয়ামালাত, মুয়াশারাতইত্যাদি শিক্ষার জন্য ওস্তাদ গ্রহণ করা যেমন ফরয;সেটা মাদরাসায় গিয়েই হোক অথবা ব্যক্তিগতভাবেকোনো ওস্তাদের নিকট থেকেই হোক তাশিক্ষা করা ফরয। তদ্রূপ ইলমে তাছাওউফ উনারজন্যও ওস্তাদ গ্রহণ করা ফরয। আর এ ওস্তাদকেইআরবীতে ‘শায়েখ’ বা ‘মুর্শিদ’ বলা হয় আরফারসীতে ‘পীর’ বলা হয়।বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী’ উনারমধ্যে উল্লেখ আছে যে-ﻛﻞ ﻣﺎ ﻳﺘﺮﺗﺐ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻻﺛﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﺮﻭﺽ ﺍﻻﻋﻴﺎﻥ ﻓﻬﻮﻓﺮﺽ ﻋﻴﻦঅর্থ : “যে কাজ বা আমল ব্যতীত ফরযসমূহ আদায়করা সম্ভব হয়না, ফরযগুলোকে আদায় করার জন্যসে কাজ বা আমল করাও ফরয।”হানাফী মাযহাব উনার মশহূর ফিক্বাহর কিতাব ‘দুররুলমুখতার’ উনার মাঝে উল্লেখ আছে যে-ﻣﺎ ﻻﻳﺘﻢ ﺑﻪ ﺍﻟﻔﺮﺽ ﻓﻬﻮ ﻓﺮﺽঅর্থ : “যে আমল ব্যতীত কোনো ফরয পূর্ণহয়না, উক্ত ফরয পূর্ণ করার জন্য ওই আমল করাওফরয।”উল্লিখিত উছুলের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিতহয় যে, ইলমে তাছাওউফ যেহেতু অর্জন করাফরয আর তা যেহেতু কামিল শায়েখ বা মুর্শিদক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়া ব্যতীত অর্জন করাসম্ভব নয়, সেহেতু একজন কামিল শায়েখ বা মুর্শিদক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয।শুধু তাই নয়, কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনারছোহবত ইখতিয়ার করা বা উনাকে অনুসরণ করারনির্দেশ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছশরীফ উনাদের মধ্যেই রয়েছে।এ প্রসঙ্গে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিউনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-ﻳﺎﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺍﺗﻘﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻛﻮﻧﻮﺍ ﻣﻊ ﺍﻟﺼﺪﻗﻴﻦ .অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা খালিক্ব মালিক রবমহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবংছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণ উনাদের সঙ্গীহও।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াতশরীফ ১১৯)উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ছাদিক্বীনদ্বারা উনাদেরকেই বুঝানো হয়েছে, যাঁরা যাহির-বাতিন, ভিতর-বাহির, আমল-আখলাক্ব, সীরত-ছূরত,ক্বওল-ফে’ল সর্বাবস্থায় সত্যের উপর ক্বায়িমরয়েছেন। অর্থাৎ যাঁরা ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমেতাছাওউফ উভয় ইলমে তাকমীলে (পূর্ণতায়)পৌঁছেছেন।মোট কথা, যিনি বা যাঁরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহপাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হয়েছেন এবংমহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হয়েছেন।এ প্রসঙ্গে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিউনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-ﻭﺍﺗﺒﻊ ﺳﺒﻴﻞ ﻣﻦ ﺍﻧﺎﺏ ﺍﻟﻰঅর্থ : “যিনি আমার দিকে রুজু হয়েছেন, উনারপথকে অনুসরণ করো।” (পবিত্র সূরা লুক্বমানশরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)অন্যত্র খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদমুবারক করেন-ﻣﻦ ﻳﻬﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻬﻮ ﺍﻟـﻤﻬﺘﺪ ﻭﻣﻦ ﻳﻀﻠﻞ ﻓﻠﻦ ﺗـﺠﺪ ﻟﻪ ﻭﻟﻴﺎﻣﺮﺷﺪﺍঅর্থ : “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকেহিদায়েত দান করেন, সেই হিদায়েত পায়। আর যেব্যক্তি গোমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, তার জন্যকোনো ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল শায়েখ)পাবেন না।” (পবিত্র সূরা কাহফ্ শরীফ : পবিত্রআয়াত শরীফ ১৭)অর্থাৎ যারা কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকটবাইয়াত হয়না, তারা পথভ্রষ্ট। কারণ তখন তাদের পথপ্রদর্শক হয় শয়তান। নাঊযুুবিল্লাহ!যার কারণে সুলত্বানুল আরিফীন হযরত বায়েজিদবোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত ত্বায়িফাহযরত জুনায়িদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুলইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিউনারাসহ আরো অনেকেই বলেছেন যে-ﻣﻦ ﻟﻴﺲ ﻟﻪ ﺷﻴﺦ ﻓﺸﻴﺨﻪ ﺷﻴﻄﺎﻥঅর্থ : “যার কোনো শায়েখ বা মুর্শিদ নেই, তারমুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক হলো শয়তান।” নাঊযুবিল্লাহ!(ক্বওলুল জামীল, নুরুন আলা নূর, তাছাওউফ তত্ত্ব)আর শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার গুরুত্ব সম্পর্কেপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারকহয়েছে-ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻓﻰ ﺍﻫﻠﻪﻛﺎﻟﻨﺒﻰ ﻓﻰ ﺍﻣﺘﻪ ﻭﻓﻰ ﺭﻭﺍﻳﺔ
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।