পাঠ্যপুস্তকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বস্তুবাদ, নাস্তিক্যবাদ তথা ধর্মহীন হওয়া শিক্ষা, ও হিন্দুত্ববাদ।

সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি
গ্রামে চার শিশু হত্যাকা-ের স্বীকারোক্তি দিয়েছে রুবেল ও
জুয়েল। রুবেল তার এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এবং
জুয়েল কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় এ হত্যাকা-টি ঘটায়। দুই
শিক্ষার্থীই হবিগঞ্জের ফয়জাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।
নিজ ছাত্রদের দ্বারা এ হত্যার বিষয়ে সহকারী প্রধান
শিক্ষক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এদেরকে ক্লাস পাস
করাইছি, মানুষ করতে পারি নাই!’
সঙ্গতকারণেই বলতে হয়, বর্তমান শিক্ষানীতি এবং সিলেবাস
অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেয়া হয়েছে নৈতিক শিক্ষা,
মানবতার শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা তথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম।
পক্ষান্তরে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বস্তুবাদ,
নাস্তিক্যবাদ তথা ধর্মহীন হওয়া শিক্ষা, ও হিন্দুত্ববাদ।
উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়।
পাঠ্যপুস্তকে বাংলা বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে-
(১). দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে ‘সবাই মিলে করি কাজ’-
শিরোনামে মানবকুলের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম আদর্শ
আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক থেকে
শিক্ষা। (যা বাদ দেয়া হয়েছে।)
(২). তৃতীয় শ্রেণী থেকে ‘খলীফা হযরত আবু বকর’
শিরোনামে বিশিষ্ট ছাহাবী সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে
আকবর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র জীবনী মুবারক থেকে
শিক্ষা। (যা বাদ দেয়া হয়েছে।)
(৩). চতুর্থ শ্রেণী থেকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দ্বিতীয়
খলীফা বিশিষ্ট ছাহাবী ফারূক্বে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত উমর
বিন খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক থেকে
শিক্ষা। (যা বাদ দেয়া হয়েছে।)
(৪). পঞ্চম শ্রেণী: ‘বিদায় হজ্জ’ নামক আখিরী নবী, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক থেকে শিক্ষা। (যা বাদ দেয়া
হয়েছে।)
আরো বাদ দেয়া হয়েছে- কাজী কাদের নেওয়াজের লিখিত
‘শিক্ষা গুরুর মর্যাদা’ নামক একটি কবিতা। যা ছিলো বাদশাহ
আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মহত্ত্ব থেকে
শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে আদব-শিষ্টাচারিতা শিক্ষণীয় বিষয়।
(৫). ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে- সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ
ড. মুহম্মদ শহীদ্ল্লুাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত
‘সততার পুরস্কার’ নামক একটি ধর্মীয় শিক্ষণীয় ঘটনা।
দ্বীনী নৈতিকতা তথা ইসলাম শিক্ষা থেকে শিক্ষণীয় বিষয়
বাদ দেয়ার তালিকা প্রকাশ করলে পত্রিকার পুরো পাতা ভরে
যাবে কিন্তু তালিকা অসমাপ্ত রয়ে যাবে।
পক্ষান্তরে যে বিষয়গুলো দিয়ে পাঠ্যপুস্তকের প্রতিটা
পাতা ভরে দেয়া হয়েছে, তা ঈমানদার মাত্র শিউরে উঠার
কথা। ঈমানী দায়িত্ববোধ থেকেই বর্তমান পাঠ্যপুস্তক
থেকে এমন কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি।
(১). পঞ্চম শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- স্বঘোষিত
নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক একটি
ইসলামবিদ্বেষী কবিতা। যেখানে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার
প্রতি বিদ্বেষ শেখানো হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
(২). ষষ্ঠ শ্রেণীতে প্রবেশ করানো হয়েছে- ‘বাংলাদেশের
হৃদয়’ নামক একটি কবিতা। যেখানে রয়েছে হিন্দুদের কল্পিত
দেবী দুর্গার প্রশংসা। নাউযুবিল্লাহ!
(৩). অষ্টম শ্রেণীর ‘আনন্দপাঠ’ (দ্রুত বাংলাপঠন) বইতে
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- সংক্ষিপ্ত রামায়ন। নাউযুবিল্লাহ!
আরো সংযুক্ত হয়েছে ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প।
যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে
মায়ের মতো, তাই এই প্রাণীকে জবাই (কুরবানী) করা যাবে
না। নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, উগ্র হিন্দুত্ববাদী দেশ ভারতে ২১টি প্রদেশে গরু
কুরবানী নিষেধ। নাউযুবিল্লাহ!
(৪). সপ্তম শ্রেণীতে ‘লালু’ নামক গল্পে বাচ্চাদের শিক্ষা
দেয়া হচ্ছে পাঠাবলীর নিয়ম-কানুন। নাউযুবিল্লাহ!
এ সিলেবাস গলধঃকরণ করে আমাদের বর্তমান ও পরবর্তী
প্রজন্ম নৈতিকতা বিবর্জিত, খুনি, সম্ভ্রমহরণকারী,
প্রতারক, দুর্নীতিবাজ, নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী ছাড়া আর
কিছুই হবে না।
বলার অপেক্ষা রাখে না, শিক্ষাব্যবস্থার উপরই গড়ে উঠে
একটি জাতির চেতনা শক্তি। শিক্ষার উপরই স্থায়ীত্ব লাভ
করে একটি জাতির মেরুদ-। শিক্ষার উপরই নির্ভর করে একটি
জাতির স্বাধীনতা ও পরাধীনতা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে,
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এদেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানের
পরবর্তী প্রজন্ম ধর্মহীনতার শিক্ষায় দীক্ষিত হচ্ছে, ঈমানী
চেতনাশূন্য হচ্ছে এবং হিন্দুয়ানী চেতনা তথা ইসলামবিদ্বেষী
মনোভাব তৈরি হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।