পুঁজিবাদী অর্থনীতি কী ২১শে ফেব্রুয়ারিকেও গ্রাস করবে? ফ্যাশন হাউসগুলোকে কেন সেন্সর করা হচ্ছে না?

বাহাত্তর সালের সংবিধানে পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিরুদ্ধে নীতি
গ্রহণ করা হয়েছিল। পঁচাত্তর পরবর্তীরা পুঁজিবাদের পক্ষে
কাজ করেছে। বর্তমান বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সরকারও
পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়নি। এই সুযোগে
পুঁজিবাদী অর্থনীতির কালো থাবা চরমভাবে বিস্তার হচ্ছে।
এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের মানুষ, আবহমান বাঙালি
মুসলিমের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ। কথিত
ভ্যালেন্টাইন দিবসকে পুঁজি করে পুঁজিবাদীরা ব্যাপক বাণিজ্য
করছে। ফ্যাশন হাউসগুলো ভ্যালেন্টাইনস পোশাক
বাজারজাত করছে। হোটেল রেস্তোরাগুলো অফার দিচ্ছে।
গিফট শপগুলো গলাকাটা বাণিজ্য করছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে
শেষ হতে না হতেই ১লা ফাল্গুনে বসন্ত বরণ উৎসবের নামে
আরো বাণিজ্য হয়েছে, বাসন্তী সাজ, বাসন্তী শাড়ি ও মিলন
মেলার নামে ব্যাপক বাণিজ্য চলছে।
গত কয়েক বছর ধরে ১লা বৈশাখের নামে লাল পাড়ের শাড়ি,
সেলোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক
নিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলো বিশেষ বাণিজ্য করেছে।
কর্পোরেট পুঁজিবাদের এ যুগে সবকিছুর মধ্যেই একটা ব্যবসা’র
স্কোপ খোঁজা হয়। সব লোক দেখানো ‘সৎ’ কাজের চেষ্টার
মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মুনাফা, ভোক্তাদের ঠকানোর
কূটকৌশল। দুনিয়াব্যাপী পুঁজিবাদী বেনিয়ারা বিভিন্ন
কৌশলে এভাবেই ভোক্তাদের পকেট কাটছে আর বাণিজ্য
করছে।
এতে করে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো তথা পুুঁজিবাদীরা
তাদের ব্যবসাকেই মুখ্য করে তুলছে। দিবস পালন বা
মূল্যবোধের চেতনার উজ্জীবন এখানে গৌন হয়ে পড়ছে।
একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে। ২১
হলো ভাষা শহীদ দিবস। ২১ যালিমদের প্রতিরোধ দিবস।
২১ ভাষা শহীদদের স্মরণ করার দিবস। যালিম পাকীদের
বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্র সমাজের ১ম রক্ত প্রবাহের দিবস
২১। এ দিবস ভাষা শহীদদের স্মরণের দিবস, এ দিবস
বেদনাময় দিবস। কিন্তু পুঁজিবাদীরা আজ এ দিবসটির চরম
অবমূল্যায়ন করে চলেছে। এ দিবসকেও তারা বাণিজ্যিকীরণ
করেছে। আর এক শ্রেণীর মিডিয়া তার সাফাই প্রচার করছে
রঙচং মাখিয়ে।
এ দিবসে তারা মহিলা ও পুরুষদের বিকৃত পোশাক বাজারজাত
করছে। অ আ ক খ লেখা পোশাক চালু করেছে। বিভিন্ন
রকমের আনন্দ, উৎসবের আয়োজন করছে। বাণিজ্য করছে।
মুনাফা লুটছে। এগুলো দুঃখজনক। এগুলো ভাষা দিবসের
মর্যাদা ক্ষুণœ করার শামিল। এগুলো বাঙালি মুসলমানের
চেতনাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা এবং পুঁজিবাদী চেতনাকে
নিষ্ঠুরভাবে উপভোগ করার শামিল। ৩০ লাখ শহীদের
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা এবং প্রায় ৫ লাখ মা-
বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার
ধারাবাহিকতায় এগুলো কাম্য নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাষা বিকৃত করা থেকে সতর্ক থাকতে
বলেছেন। বাংলাভাষাকে রক্ষা করার কথা বলেছেন। একুশের
চেতনায় উজ্জীবিত হতে বলেছেন। প্রসঙ্গতঃ একুশের চেতনা
হলো- স্বকীয়তা রক্ষা করা। বিজাতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি তথা
ইংরেজি বা হিন্দির সাথে তথা কায়েমী স্বার্থবাদ বা পুঁজিবাদী
অর্থনীতির বলি না হওয়া। যদি তাই হয়, তবে একুশের নামে
পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইন ডে’র নামে কর্পোরেট কালচারকে
প্রতিহত করতে হবে। ফ্যাশন হাউজগুলোর বিকৃত বাণিজ্য
বন্ধ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, আমরা একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই, নায়ক-
নায়িকাদের পোশাক ভঙ্গিমা পরিশীলিত রাখার জন্য
চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড কাজ করে।
যে দৃষ্টিভঙ্গীতে সিনেমার নায়ক-নায়িকার পোশাক দর্শকদের
উত্তেজিত করতে পারে বলে সেন্সর করা হয় সে একই অর্থে
ফ্যাশন হাউসের বিকৃত পোশাক, ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’র পাতলা
পোশাক, দর্শকের বিকৃত কামনা-বাসনাকে উত্তেজিত করে
থাকে।
এটা ইসলামী মূল্যবোধের চরম অবমাননা। যা ৯৮ ভাগ
মুসলমান অধ্যুষিত দেশে রাষ্ট্রদ্বীন ‘ইসলাম’ উনার দেশে
মেনে নেয়া যায় না এবং চলতে দেয়া যায় না। পাশাপাশি জাতীয়
মূল্যবোধ ও চেতনাম-িত দিনগুলোকে নিয়ে তথা ধর্মীয়
উৎসব সম্পর্কিত দিনগুলোকে পুঁজি করে পুঁজিবাদী
অর্থনৈতিক উদ্যোক্তারা অযাচিতভাবে মুনাফা লুটে নিবে,
এটাও হতে দেয়া যায় না।
আমরা মনে করি, “পবিত্র কুরআন শরীফ পবিত্র সুন্নাহ শরীফ
বিরোধী আইন পাস হবে না”- এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির
সরকারের এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া ফরয-ওয়াজিব।
কারণ ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক
তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি
পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা
হবে।” (পবিত্র সুরা বনি ইসরাইল শরীফ: পবিত্র আয়াত
শরীফ ৩৪)
অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক
তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা যখন পরস্পর
মহান আল্লাহ পাক উনার নামে কোনো ওয়াদা করো, তখন
তা পূর্ণ করো।” (পবিত্র সূরা নাহল শরীফ : পবিত্র আয়াত
শরীফ ৯১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
“ওয়াদা রক্ষা করা ঋণস্বরূপ।” আরো ইরশাদ মুবারক
করেছেন, “ওয়াদা বা প্রতিজ্ঞা পূরণ করো; এ সম্পর্কে
রোজ হাশরে প্রশ্ন করা হবে। কাফের হোক কিংবা
মুসলমান- উভয় ক্ষেত্রেই ওয়াদা পালন করা অবশ্য
কর্তব্য। কেননা ওয়াদা পালন করা এমন গুণ, যাকে বিকৃত
করা যায় না।”
মূলত, এসব দায়িত্ববোধ আসে সম্মানিত ইসলামী অনুভূতি ও
প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক
তথা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল
আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ
উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার
ছোহবত মুবারক লাভেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য
নিয়ামত হাছিল সম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।