সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

বিভাগবিহীন

প্রসঙ্গ : তুরস্কের পর তিউনিশিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে জয়। কোনো মুসলমান দেশেই ধর্মনিরপেক্ষতা স্থায়ীভাবে আসন গাড়তে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষতার খোলসে চলে নিকৃষ্ট ও নির্মম ধর্মহীনতা।

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম। ভূমধ্যসাগরের তীরে এবং আলজেরিয়া ও লিবিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া। প্রাচীন কার্থেজ নগরী এখানেই অবস্থিত। এই দেশের ঐতিহ্যের কথা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয়। ঈসায়ী পূর্ব ১২ শতকে ফিনিশীয়রা উত্তর আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তুলেছিল। আজকের তিউনিশিয়ার অধিকাংশ অংশ ঈসায়ীপূর্ব ৬ শতকে কার্থেজ রাজ্যের অংশ ছিল। ১৪৬ ঈসায়ী সাল থেকে তিউনিশিয়া রোমান শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। ৭ শতকে মুসলিম বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত রোমান আধিপত্য বজায় থাকে। এটি ১৫৭৪ সালে তুরস্কের অটোম্যান সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৮৩ সালে দেশটি ক্রুসেডীয় ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীনে চলে যায়। ১৯৫৫ সালে স্বায়ত্তশাসন লাভ করে এবং ১৯৫৬ সালে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর রাষ্ট্রপতি হাবিব বর্ডরগাইবা এখানে একটি এক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৫৬ সালে হানাদার ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার আগে তিউনিশিয়ায় কঠোরভাবে সেক্যুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ও দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট হাবিব বুরগুইবা ছিলো মনেপ্রাণে সেক্যুলার এবং সে ইসলামকে রাষ্ট্রের জন্য একটা বড় হুমকি মনে করতো। এরপর ১৯৮৭ সালে যখন বিন আলী সাবেক প্রেসিডেন্ট বুরগুইবাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজে ক্ষমতা দখল করলো তখন সে কারাগার থেকে ইসলামী আন্দোলনের বহু নেতাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিলো এবং তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দিলো। অবশ্য পরের ঘটনা ভিন্ন রকম। নির্বাচনের ফলাফলে বিন আলী অবাক হলো এবং সে ইসলামপন্থীদের প্রাপ্ত ভোটে শঙ্কিত হয়ে পড়লো। তিউনিশিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামী দল আননাহদাহ বা নবজাগরণ সরকারিভাবে ভোট পেল শতকরা ১৭ ভাগ এবং দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। এর অবস্থান দাঁড়াল ক্ষমতাসীন দলের পরেই। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক কারচুপি করা হয়। এ কারণে সে সময় আননাহদা দলের ভোট শতকরা ১৭ ভাগ দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামী এ দলটির প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ হতো। অথচ ওই নির্বাচনে সেক্যুলারপন্থী সব বিরোধীদলের সম্মিলিত ভোট ছিল শতকরা মাত্র তিন ভাগ। ১৯৮৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরপরই বিন আলী তার নীতি পরিবর্তন করলো। সে আবার আননাহদাহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো এবং এর সমর্থকদের ধরে ধরে জেলে পুরলো। এছাড়া ইসলামের প্রতি যারাই একটু সহানভূতি দেখালেন তাদের ওপর চলল ভয়াবহ দমন-পীড়ন। সে বছরই আননাহদাহ দলের নেতা শেখ রশিদ ঘানুচিকে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠানো হলো। গত ২৩ অক্টোবর তিউনিশিয়ায় প্রেসিডেন্ট জিনেদিন বিন আলির পতনের পর সেদেশে রবিবার প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, তিউনিশিয়ার নতুন সংবিধান প্রণয়নে ইসলামপন্থীরা প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারবেন। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, ২১৭ আসন বিশিষ্ট পার্লামেন্টে তারা কমপক্ষে শতকরা ৩০ ভাগ আসন পাবেন। অবশ্য অনেকে মনে করেন, আননাহদাহ পার্টি শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ ভোট পেতে যাচ্ছে। রোববারের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পার্লামেন্ট তিউনিশিয়ার জন্য একটি নয়া সংবিধান প্রণয়ন করবে। আননাহদাহ পার্টি বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে শরীয়াহ বা ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করবেন। এখন পার্লামেন্টে সর্ববৃহৎ দল হিসেবে আননাহদাহ স্বাভাবিকভাবেই দেশটির সংবিধান প্রণয়নে প্রধান ভূমিকা রাখবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, দেশটিতে পরবর্তীতে সংবিধান ইসলামী আইন অনুযায়ী প্রণীত হতে যাচ্ছে। তিউনিশিয়ায় আননাহদাহ পার্টির এ বিজয় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার গণআন্দোলন সফল হওয়া অন্য দেশগুলোর ইসলামপন্থী দলের বিজয়ের সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তিউনিশিয়ার আগে তুরস্কেও ইসলামপন্থীদের বিরাট বিজয় সূচিত হয়। এ বিজয় নামধারী মুসলমানদের গৃহীত নীতি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে। তুরস্কে অতীতে সেক্যুলার সরকারের আমলে তুরস্কের সেনাবাহিনীতে ইসলামপন্থীদের সঙ্গে চরম বিদ্বেষী ও শত্রুতামূলক আচরণ করা হয়েছে সে সময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ইসলামপন্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অভিযান চালানো হতো। এসব অভিযান চালিয়ে কারো বাড়িতে কুরআন শরীফ পাওয়া গেলে কিংবা কারো স্ত্রী অথবা আত্মীয় স্বজনের মধ্যে কেউ হিজাব বা পর্দা করলে অথবা কেউ নামায-রোযা করলে বা ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে তাদেরকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হতো। এসবই করা হতো সংবিধানের দোহাই দিয়ে। কারণ সে সময় তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান বলবত ছিল। উল্লেখ্য, ধর্মনিরপেক্ষতা যে কত নিকৃষ্ট ও নির্মম ধর্মহীনতা হতে পারে তার বড় উদাহরণ তুরস্ক ও তিউনিশিয়া। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট প্রতিভাত হয়েছে যে, মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে কখনও ধর্মনিরপেক্ষতা স্থায়ী আসন গড়ে উঠতে পারে না। আজ হোক অথবা কাল হোক- এর অবসান হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। যদিও ইসলামের দৃষ্টিতে নির্বাচন হারাম তারপরেও তুরস্ক ও তিউনেশিয়ার এ বাস্তবতা থেকে আমাদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা যত তাড়াতাড়ি নছীহত গ্রহণ করবে ততই সবার জন্য মঙ্গল। কারণ এ ঘটনা এদেশের মুসলমানদেরও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের গণচেতনা জাগরিত করবে। মূলত, এসব দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই কেবলমাত্র তা লাভ সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত নছীব করুন। (আমীন)
 

3 টি মন্তব্য

  • মুজাদ্দিদী সৈনিক

    আমীন :rose: :rose: :rose:
  • জাগ্রত রজনী

    সুম্মামীন। :rose: :rose: :rose:
  • জাগ্রত রজনী

    বাংলাদেশের মুসলমানদের জগে ওঠার সময় হয়েছে।
    জাগো বাংলার মুসলমান জাগো। :announce:

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।