পহেলা বৈশাখ ও একটি প্রশ্ন......

আজ আমাদের পাশের বাড়িতে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তা'লীমের আয়োজন করা হয়েছিলো। সবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই দিন উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিলো। আমি যতটুকু জানি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কিছু করা শরীয়ত সম্মত নয়।
তা'লীমে নাকি বলা হয়েছে পহেলা বৈশাখের হারাম কাজ থেকে সবাইকে বিরত রাখার জন্য এই মজলিসের আয়োজন।
আমার জিজ্ঞাসা হল- পহেলা বৈশাখের নাম নিয়ে এই মজলিশ কি শরীয়ত সম্মত হয়েছে? এখানে কি যাওয়া উচিত হবে?
5 টি মন্তব্য
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।
দিগ্বিজয়ী
উসওয়াতুন হাসানাহ
ডাঃ আফসার
ডাঃ উসওয়াতুন হাসানাহ, আপনার প্রশ্নে কয়েকটা বিষয় লক্ষনীয়ঃ
১। ......পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তালীমের আয়োজন করা হয়েছিল।
২। সবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই দিন উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।
৩। ......পহেলা বৈশাখ এর হারাম কাজ থেকে সবাইকে বিরত রাখার জন্য এই মজলিসের আয়োজন।
উপরের ১ ও ৩ নং বিষয় দুটো খুব সুন্দর এই জন্য যে- পহেলা বৈশাখে মানুষ খারাপ কাজ করে, অতএব তাদেরকে ডেকে এই দিনের ইতিহাস, এই দিনের সাথে কাফির-মুশরিকদের ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা বর্ণনা করে এই দিনের ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম জানিয়ে দেয়া যাতে মানুষ হারাম থেকে বেছে থাকতে পারে ও ঈমান হিফাযত করতে পারে। অর্থাৎ- তারা যদি পহেলা বৈশাখের ব্যবচ্ছেদ.. করে সবাইকে এই দিনটিকে উদযাপন করা থেকে বিরত রাখার নিয়তে তালীমের আয়োজন করেন তাহলে তা শরীয়তসম্মত হবে।
তবে কথা হল- প্রশ্নে আপনি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের মজলিসে যাওয়া জায়িয হবে কিনা। ২ নং পয়েন্ট থেকে আমার কাছে এটা মনে হচ্ছে যে তারা পহেলা বৈশাখ এর ব্যাপারে অজ্ঞ, পহেলা বৈশাখ বিরোধী নন এবং তারা ‘ইসলামী গণতন্ত্র’, ‘ইসলামী গান’, ‘ইসলামিক টিভি’, ‘ইসলামিক নাটক’-ইত্যাদির মতো “ইসলামী পহেলা বৈশাখ” পালন করতে চান। কেননা- “সবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই দিন উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল।“ অথচ এই দিনে একটা ডিম ও যদি কেউ খরচ করে তাহলে তার ৫০ বছর বা সারা জীবনের আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তাহলে তারা কিভাবে এই দিনকে উপলক্ষ করে টাকা সংগ্রহ করে খাবারের আয়োজন করতে পারেন???
আর সবশেষে একটা প্রশ্ন থেকে যায়-......পহেলা বৈশাখ এর হারাম কাজ থেকে সবাইকে বিরত রাখার জন্য এই মজলিসের আয়োজন। তাহলে কি হালাল কাজের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ পালন করলে কোন সমস্যা নেই???
জুলফিকার
বক্তা
অথচ ইসলামী শরীয়ত উনারর ফতওয়া হলো, নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে কেউ যদি একটা ডিমও দান করে তাহলে তার জিন্দেগীর সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ সে আর ঈমানদার থাকবে না, সে ঈমানহারা হয়ে যাবে।”
তাহলে এই দিন উপলক্ষে কি করে খাবারের আয়োজন করা যেতে পারে?
আর পহেলা বৈশাখের হারাম কাজ থেকে সবাইকে বিরত রাখার জন্য বছরের ৩৬৪ দিনই তো তা’লীমের আয়োজন করা যায়! পহেলা বৈশাখের দিন কি প্রয়োজন?